বিনোদন
স্বপ্ন দর্পণ

প্রথম থেকে চতুর্দশ পর্বের লিংক
পনের
বুলার বাবা নৌকাভ্রমন ও বনভোজনের সমস্ত সদায় ভ্যানে করে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। বুলাদের বাড়ি থেকেই এইবার খাবার রান্না করে দেবেন শিলা শেখ। এই সাত জনের প্রত্যেকের বাড়িতে একেকবার ঘুরে ঘুরে এই রান্নার আয়োজন করা হয়। এইবার বুলাদের বাড়িতে হবার কোন পরিকল্পনা না থাকলেও বুলার মা নিজে থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন।
ষ্টার মাইক ঠিক করে এসেছে তুলসী ও বুলবুল। বৃহস্পতিবার হওয়ায় পরাণ মাঝি আজকে খেয়া পারাপারে একটু ব্যস্ত ছিলো। তাই নৌকা সাজানোর কাজটি শেষ করতে দেরী হয়ে গেল! ষ্টার মাইকের বাবুল সরদার সন্ধ্যার আগেই তালুকদার বাড়িতে মাইক পাঠিয়ে দিয়েছে। ভোরে মাইক চালানোর জন্য একজনকে পাঠিয়ে দেবে বাবুল সরদার। এই বাড়ির ঘাট থেকে নৌকা ছাড়া হবে, তাই মাইক এই বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। অন্য কারো বাড়ি থেকে কান্তা নদীর শাখা নদী নন্দার এতো নিকটবর্তী ঘাট নেই। তাছাড়া এলাহী তালুকদার নিজে কাছে থেকে সবাইকে নৌকায় তুলে দেবেন। সাথে দুজন পাহারা দেবার মানুষও এলাহী তালুকদার ঠিক করে রেখেছেন।
খাবার ভোরে বুলার বাবা ও মা নিয়ে আসবে। সাত সদস্যের “হানাদল” আজ রাতে চৈতীর নানাবাড়িতে থাকবে। চৈতীর নানু দুই রুমে বিছানা করে দিয়েছেন। একরুমে তিন কন্যা, আরেকরুমে চার পুত্র সকল। কারো চোখে আজ ঘুম নেই। এলাহী তালুকদার দুই একবার এসে ঘুমানোর কথা বলে গেলেও কোনো কাজ হয়নি। অন্য সময় হলে এলাহী তালুকদারের একবার বলাতেই কাজ হয়ে যেতো। কিন্ত হানাদল প্রথমবারেই লক্ষ্য করেছে এক ধরণের নম্রতা আজ নানাজানের আদেশে।
তারপরও সারাদিনের নানান ঝক্কি ঝামেলার কারনে এক সময় হানাদল দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা আলাদা রুমে ঘুমাতে চলে যায়। হঠাৎ দুরে শিয়ালের ডাকে বুলা চৈতীর একটি হাত চেপে ধরে আধোঘুম আধোজাগরণে। চৈতীর আরেকটি হাত বুলার হাতে এসে ভর করে। আসমা গভীর ঘুম। চৈতী বুলার হাতে হাত জড়িয়ে ঠিক পাশের রুমে থাকা বাবুকে কল্পনায় ভাবতে থাকে। গানে বাবুর মত এই তল্লাটে শুধু নয় আশেপাশের দশ গ্রামেও নেই। কি এক অদ্ভুত টান অনুভব করে চৈতী বাবুর জন্য। বাবুও চৈতীর কাছে পরাজিত সে ভালোই বুঝতে পারে। এমন কতনা হাজার হাজার ভাবনায় যখন চৈতী ভীষণ মগ্ন ঠিক তখনই মসজিদে আজান দিয়ে উঠে মুয়াজ্জিন চাচা! কিযে মিষ্টি লাগে চাচার আজান!
আজ আর ঘুমানো হোলোনা চৈতীর। খুব সাবধানে বুলার হাত ছাড়িয়ে উঠে পরে চৈতী। গোসল ঘরে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে নেয় সে। ওযু সেরে নিজের রুমে গিয়ে নামাজ আদায় করে ফিরে আসে দুই বান্ধবীর রুমে।
চৈতী:
কিরে তোরা উঠলি কেন, আরেকটু ঘুমাইয়া নিতে পারতি।
আসমা:
মোয়াজ্জিন চাচার আজান এতো কাছে থেইকা শুনি নাই। কি মিষ্টি সুর, কানে গিয়া লাগলো আর ঘুম গেলো শয়তানের সাথে পালাইয়া।
বুলা:
আমি শিয়ালের ডাকে ঘুমাইতে পারিনাই। তুই খুব সাবধানে আমার হাত ছাড়াইলি, ঘুম গেলো ভাইঙ্গা।
চৈতী:
তাইলে আমার সাথে উঠলেই পারতি। নামাজ পড়তে পারতি একসাথে।
নামাজের কথা শুনতেই বুলা আসমা বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠলো!
আসমা:
ইশ, কি রকম নাফরমান হইছি, আযান শুইনা শুইয়া আছি!
বুলা:
ঠিক কইছস, সবকিছু করি, এই বান্দর্নীর কত শয়তানিতে যোগ দিয়া নিজেগোর আখেরাতের সব বিয়োগ করতেছি শুধু নামাজের সময় সব গড়িমসি!
চৈতী হেসে ফেলে বুলার অভিযোগ শুনে। বুঝতে তার একটুও কষ্ট হয়না, এই অভিযোগের মধ্যে গভীর ভালবাসা লুকিয়ে আছে। যে ভালবাসা কোনোকিছু দিয়েই পরিমাপ করা যাবেনা।
চৈতী:
যা, সাত সকালে মেজাজ আমার না বিগড়াইয়া নামাজের জন্য তৈরি হইয়া নামাজ পইড়া নে। আমি দেখি চ্যাংড়াগুলার কি খবর।
আসমা এবং বুলা চলে যায়। চৈতী পাশের রুমের দরজায় গিয়ে খুব আস্তে আস্তে ডাকতে থাকে বন্ধুদের। প্রথমে গলার স্বর নিচু করে কয়েকবার ডাকায় কোনো সাড়াশব্দ পায়না। পরে গলার স্বর একটু উঁচু করেই ডাকতে থাকে।
চৈতী:
সুকুমার, এই তুলসী, বাবু বুলবুল তোরা কি ঘুম থেকে উঠছিস? এই সুকুমার, তুলসী!
বাবুর কানে প্রথম চৈতীর ডাক পৌঁছায়। সে নিজেও সারারাত ঘুমায়নি। এইমাত্র একটু তন্দ্রার ভাব আসতেই চৈতীর ডাকে উঠে বসে।
বাবু:
কি তুমি ঘুমাও নাই সারারাত? এতো ভোরে উঠলা কেমনে?
বাবুর কথা শুনে চমকে উঠে চৈতী। বুকের ভেতরের হাতুড়ি পেটা শব্দ চৈতীর কানে এসে বাজছিলো বারংবার। এক ধরনের অস্থিরতায় বোবা হয়ে যায় চৈতী! বাবু পুনরায় কথার পুনরাবৃত্তি করলে ফিরে আসে চৈতী চেতনায়।
চৈতী:
হ্যা, ঘুমাইছি, মানে ঘুমাইনাই। ধ্যাৎ, ঘুমাইছি, সকালের আযানে ঘুম ভাইঙ্গা গেছে। তোমরা কি উঠছো?
বাবু:
আমার মাত্র তন্দ্রা আসছিলো, তোমার ডাকে উঠছি।
চৈতী:
দরজা খুলবা? আমি কি ডাকুম সবাইরে?
বাবু বন্ধুদের শোওয়ার গতিবিধি খেয়াল করে দরজায় এসে দাঁড়ায়। চমকে ওঠে বাবু! যেনো চৈতীর ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পায় সে। বুঝতে পারে দরজার ওপারে দাঁড়ানো চৈতীর মনের কথা! কিছুক্ষন নিশ্চুপ পাথরের মত দাঁড়িয়ে থাকে বাবু।
চৈতী:
বাবু খোলা যাবে দরজা, না তুমি ডেকে তুলবা সবাইরে?
দরজা খুলে যায়। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুইজন। কারো মুখে কোনো কথা ফুটে ওঠেনা মুহূর্তকাল। অন্য এক ভালোলাগায় হারিয়ে যায় চৈতী ও বাবু দুইজোড়া চোখে চোখে। সমস্ত দুঃখ, কষ্ট একনিমেষে উধাও! থেমে যায় দুই পৃথিবীর সুরের মূর্ছনা। হাওয়ার গতি নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে পরে দুটি আত্মার গোপন মিলনে।
ষোলো
আজ আকাশটা বড্ডবেশী নীলের চাদরে আচ্ছাদিত। সূর্য্যের মিষ্টি হিমেল আলোয় চারিদিক উচ্ছসিত। পাখিরা ভোরের সুরে কন্ঠ মিলিয়ে গেয়ে গেয়ে উড়ে যাচ্ছে দিনের গন্তব্যে। শিশিরের চুপ টুপ শব্দ জলতরঙ্গের মত কানে এসে চুপি চুপি গাইছে,”আজ আমাদের নেই কোনো কাজ, আজ আমরা ছুটির আনন্দে হবো পাগলপারা!
এলাহী তালুকদার:
কিরে দস্যুদল, তোরা সবাই তৈরী? বেশি দেরি করলে তোদের আনন্দের হিসেবে হেরফের হয়ে যাবেযে। পরাণ সেই কখন থেকে বসে আছে তোদের অপেক্ষায়। তোদের বাবা মা সবাই ঘাটে দাঁড়িয়ে আছে।
চৈতীর নানা কখনোই ঘরের বাইরে বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে অঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় দেয়না। শুধু বয়োজ্যেষ্ঠ কারো সাথে অবস্থা বুঝে আঞ্চলিকতা ঝেড়ে দেয়, তাও কালেভদ্রে। কোলকাতায় এই বৃদ্ধ তার পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন। সেখানকার কিছু চালচলন অজান্তেই নিজের জীবনের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। নানার হাঁকডাক শুনে হানাদল ঝটপট উঠোনে এসে দাঁড়ায়। সাত সেয়ান নানার সামনে অজান্তেই এমন পজিশন নিয়ে দাঁড়ায়যে মনে হয় আর্মীর কমান্ডার তার ব্যাটেলিয়ানকে তলব করেছে যুদ্ধের জন্য, তারা এক্কেবারে প্রস্তুত!
এলাহী তালুকদার:
কিরে, তোরা কি বনভোজন করতে যাচ্ছিস না যুদ্ধে? হঠাৎ সবাই লজ্জা পেয়ে যায়। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে নাপারে হাসতে নাপারে গোমড়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে! চৈতীই প্রথম দলের লাইন ভেঙে নানার দিকে এগিয়ে যায়।
চৈতী:
(নানার কানের কাছে মুখ নিয়ে) বুড়া, তোমাকে সবাই ভয় পায়, তুমি এতদিনেও বুঝতে পারোনি?
এলাহী তালুকদার:
(চৈতীর কানের কাছে মুখ নামিয়ে) তাহলে কি একটু ভয় দেখাবো গিন্নি?
চৈতী:
কিভাবে?
এলাহী তালুকদার:
সেতো আমি জানি। তুই বললেই হবে!
চৈতী নানা ভাইয়ের কথায় বেশ একটা মজার আভাস পায়।
চৈতী:
ওকে, দেখাও কি ভয় দেখাতে চাও।
এলাহী তালুকদার:
এই তোদের দলে সবচাইতে বাঁদর কে চৈতী ছাড়া?
সবাই আবার নানা ভাইয়ের কথায় এরওর দিকে তাকাতে থাকে। তুলসী সাহস করে হাত তোলে।
এলাহী তালুকদার:
তুলসী তুই চৈতীর পরের বাঁদর?
তুলসী: না, নানাভাই, আমি বলতে পারি কেডা!
এলাহী তাকুকদার:
এ কেমন ভাষায় কথা বলছিস? স্কুলে কি এভাবেই শিখিস নাকি?
তুলসী এবার ঘাবড়ে গিয়ে তোতলাতে থাকে। সুকুমারের হাত উঠে যায়!
সুকুমার:
নানাভাই, আমি চৈতীর পরের স্টেজের বাঁদর। কিছুকিছু ক্ষেত্রে চৈতীও আমার বাঁদরামি দেখে চুপসে যায়!
এলাহী তালুকদার:
নিজের সম্পর্কে এমন স্বচ্ছ ধারণার স্বিকারোক্তির কারনে আজকে সুকুমার তোদের সাথে বনভোজন করতে যাবেনা!
সবাই একসাথে চেঁচিয়ে ওঠে! তবে সেই চেঁচানো বেড়ালের মিউ শব্দের চাইতেও ক্ষীণ। আসমা একটু সাহস করে কথা বলতে চেষ্টা করে! কারন আসমা জানে নানা ভাই চৈতীর সাথে তাকে আর বুলাকেও খুব স্নেহ করেন, বড্ড ভালবাসেন!
আসমা:
নানাভাই, সুকুমারের ব্যপারে আপনার এমন সিদ্ধান্ত কেনো আমরা জানতে চাইনা। কিন্ত এই সুকুমার আমাদের সবার জন্য ঢাল স্বরূপ। আমাদের বিপদে ওর মত সাহসী কেউ নই।
বুলা: জ্বি নানা, অসমার কথা সত্যি কিনা সবাইকে এক এক করে জিজ্ঞেস করে দেখুন। চৈতীকে আগে জিজ্ঞেস করুন।
এলাহী তালুকদার হানাদলের একাত্মতা দেখে এসেছেন সেই ওদের বাল্যকাল থেকেই। কিন্তু আজকের এই দেখায় সে চোখের জলে চশমা ঝাপসা না করে পারলেন না! সুকুমার সেই প্রথম থেকেই একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলো নানাভাইয়ের দিকে। বনভোজনের শুরুটা কিছু একটা মজা দিয়ে শুরু হোক সেই লক্ষ্যেই এই খেলা সে আঁচ করতে পারলেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। কিন্তু নানাভাইয়ের চোখের ঝিকমিক করে ওঠা অশ্রুর ঝলকে আর বুঝতে বাকি থাকেনা সুকুমারের কিছুই। সে দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরে এলাহী তালুকদারকে।
সুকুমার:
নানাভাই, আপনে না চাইলে ভগবানের দোহাই আমি এই বনভোজনে যামুনা।
এলাহী তালুকদার:
এই তুই আবার যামুনা, খামুনা, করছিস কেন?
দলের সবাই এলাহী তালুকদারকে জাপটে ধরে। বাড়ির সকল সদস্য উঠোনে এসে এলাহী তালুকদারের নাটকটি বেশ উপভোগ করতে থাকে। চৈতীর নানু কাছে এসে সুকুমারকে ছাড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে!
শেলীমা তালুকদার:
রাইতে তোর নানায় এই প্লান কইরা আমারে কইছে! তোরে বাদ দিয়া ওরা কেমনে বনভোজনে যায়!
এলাহী তালুকদার:
শেলী, তুমি কিন্তু আমার ইজ্জত সম্মান নষ্ট করছো!
উঠোনজুড়ে এক আনন্দের ঝড় বয়ে যেতে লাগলো। হানাদল জানে নানাভাই তাদের অনেক ভালবাসে, কিন্তু সেই ভালবাসার মাত্রা এতটা বেশী তাদের ধারণার মধ্যেও ছিলোনা। সবাই গোছগাছ করে রওনা দিলো ঘাটের উদ্যেশ্যে। বাবু আড়চোখে চৈতীকে একবার দেখে গামছায় বাঁধা হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে গান ধরলো। তুলসীও তুলে নিলো গলায় রঙিন মাফলারে বাঁধা ঢোল। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে, শাখে শাখে পাখী ডাকে, কত শোভা চারিপাশে, আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে!
সতেরো
তালুকদার বাড়ির ঘাটে হানাদলের পরিবার পরিজনের মেলা জমেছে। পৃথিবীতে সকল মা বাবাই তাদের দুষ্ট সন্তানটির প্রতি নয়তো একেবারে চুপচাপ সন্তানটির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। এই দুই প্রকৃতির সন্তানই বাবা মাকে নানা ধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যে রাখে। তাই সাত সদস্যের সবার বাবা মা আজ তাদের এই নৌকা ভ্রমন সহ বনভোজনের যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে এসেছে কেউ দোয়া দরুদ পড়ে ফুঁ দিতে অথবা রামনাম জপে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে। এলাহী তালুকদারের পরিবারের সাথে হানাদল এগিয়ে চলেছে ঘাট অভিমুখে। দূর থেকে এলাহী তালুকদার ও তার পত্নীকে দেখে বুলার বাবা মা সহ অন্যান্য সবাই তাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। বাবুর গান আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পরলেও একজনকে আছন্ন করে তুলছে বারবার। কি সুন্দর মান্নাদের গান ধরেছে বাবু। নানাভাইয়ের অনুরোধে বাবু মান্নাদের গান গাইছে আর এদিকে ছটফট করছে সদ্য যৌবনে পা দেয়া চৈতীর মন।
আরিফ শেখ:
আসসালামুআলাইকুম কাকা! কেমন আছেন?
এলাহী তালুকদার সালামের উত্তর দিয়ে বাবুর দিকে ইশারা করে আরিফ শেখকে নীরব থাকতে অনুরোধ করে। তাই দেখে অন্য সবাই সাথে সাথে সালাম নমস্কার থেকে হাত গুটিয়ে বাবুর গানে মনোনিবেশ করে। এই তল্লাটে এলাহী তালুকদারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনের দুটি মূল কারন রয়েছে। এক সে আশেপাশের চৌদ্দ গ্রামে ব্রিটিশ আমলের বিএ ডিগ্রীধারী, দ্বিতীয়ত তার মানবিক সভ্যতা, দয়া, উদারতা। দেশ পাকিস্তানীদের হাত থেকে স্বাধীনতা আদায় করবার পর অত্র অঞ্চলে অনেকেই একেবারে নিঃস্ব হয়ে পরে। এলাহী তালুকদার তার কঠোর পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে নিজের ধ্বংসপ্রায় ব্যবসার উন্নতির সাথে সাথে কাছের দূরের অনেককে নানাভাবে সাহায্য করে করেছেন উপকৃত! ঘাটে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই বাবুর গান শেষ! চৈতীর কানে তখনও বাজছে,”কে তুমি, কে তুমি তন্দ্রা হরণী! দাঁড়িয়ে আমার চোখের আড়ে, রাঙালে এ’মন পুষ্পরাগে কে তুমি চম্পা বরনী”!
এলাহী তালুকদার:
সালাম সবাইরে। নমস্কার সলিল বাবু। কেমন আছো প্রমোতোষ?
সলিল চৌধুরী সুকুমারের বাবা। প্রমোতোষ মজুমদার তুলসীর জ্যাঠা মশাই। এই জ্যাঠার কাছেই তুলসী মানুষ হচ্ছে। বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় কমরেড আশুতোষ মজুমদার ঢাকায় গিয়েছিলো আন্দোলনের ডাকে। আর ফিরে আসেনি সে। তুলসীর মা তার তিন সন্তানকে নিয়ে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে তার পিতামাতার কাছে। কিন্তু তুলসীর জ্যাঠা তাদের যেতে দেননি। বড় ভাইয়ের তিন সন্তানকে নিজের দুই সন্তানের সাথে মানুষ করবার ব্রত নিয়ে বৌদিকে মাতৃতুল্য সম্মান দিয়ে ভাইয়ের ভিটেতে রেখে দেন।
এলাহী তালুকদার:
ঐ দস্যুর দল, নাও সকাল সকাল নৌকায় উঠে পরো। আমরা সবাই আসছি দুপুরে একসাথে খাবো। কি আরিফ সবার রান্নার আয়োজন করেছতো? খাবার জামালের নায়ে তুলেছেন নিশ্চয়ই?
চৈতী নানাভাইয়ের কাছে গিয়ে কানে কানে আবার কথা না বলে পারলোনা!
চৈতী:
নানুভাই তুমি কি বলছো? তোমরা আসবে মানে? তাহলে আমি যাবোনা!
এলাহী তালুকদার:
কেনো আমরা গেলে তোরভাগে কম পরবে? যা তাহলে যাবোনা! এইযে সবাই শুনুন আমরা গেলে ওদের খাবারে কম পরবে তাই আমরা আজ যাচ্ছিনা।
বলেই উচস্বরে হেসে ওঠে এলাহী তালুকদার। তার হাসির সাথে বাকী সবাই হাসতে থাকলেও একটু আগে তার কথায় সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলো। লোকটির খুব আনন্দের চিত্ত, দয়ালু মানুষগুলো এমনই হয়! সবাইকে নৌকায় উঠিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো ঘাটে যতক্ষননা নৌকা চোখের আড়াল হোলো। খুব শান্ত কান্তার স্রোত। বর্ষায় এই স্রোতের দিকে তাকিয়ে থাকতেও ভয় করে। যদিও এই সাত চিত্ত এই স্রোতের সাথে খেলেছে বারবার, তবুও ভরা বর্ষায় ওদেরও বুকে মাঝে মধ্যে পানি থাকেনা।
মাইকে গান বাজছিলো। বুলবুল গান বন্ধ করে মাইক ম্যানকে তিনটি মাইক্রোফোন ঠিক করতে বলে স্ট্যান্ডের সাথে। পরাণ মাঝির নৌকা আজ যেনো এক সুন্দরী রমণী। কি সুন্দর সাজিয়েছে বুলবুল। একটি মাইক্রোফোন হারমোনিয়ামে, একটি তবলায়, আরেকটি বাবুর মুখে! গানে গানে কান্তার পথ থেকে ডাইনে বাঁক নিয়ে পরাণ মাঝির নৌকা বেহুলা নদে পরতেই দুরে ওদের নির্ধারিত বনভোজন স্পট নজরে পরলো। সবাই বেশ উত্তেজিত। খুব মজা খুব আনন্দ আজ! এরপর কলেজে যেতে শুরু করলে কে কোথায় থাকবে সেই ভাবনায় সাতজন বেশ মন খারাপের দোলায় দুলছে। কিন্তু সবাই প্রতিজ্ঞা করেছে আজ কোনো মন খারাপ নয়।
বনভোজনের এই স্পটে বেশ জমজমাট অবস্থা থাকে এই সময়টাতে। কিন্তু আজ বেশ হালকা পাতলা ভীড়। তাই সকাল থেকেই সাত বন্ধুর এক অনাবিল হৈচৈ যেখানে অন্যের জানবার, শুনবার দেখবার কোনো বাড়তি সুযোগ থাকলোনা ভিন্ন মানুষদের। ঠিক বারোটা বেজে তিরিশ মিনিটে বুলা ঘোষণা দিলো মধ্যাহ্ন ভোজনের। পরাণ মামা নৌকায় ঘুম দিয়েছে আজ অনেকদিন পর। সবাই মিলে নৌকায় গিয়ে হাতে হাতে খাবার নিয়ে এলো নির্ধারিত বসবার জায়গায়। পরাণ মাঝি এগিয়ে সবার সামনে। হানাদলের এই এক অদ্ভুত বিষয়। কাউকে সম্মান দিতে এদের এতোটুকি কার্পণ্য কিংবা দেখানো ভাব নেই। সবটাই এক নির্মলতায় পরিপূর্ণ।
শীতল পাটির উপর নকশা করা চাদরে খাবারের সরঞ্জাম সাজানো। আসমা, বুলা ও চৈতী খাবার পরিবেশন করতে যাবে ঠিক সেই সময় ঘটে এই ঘটনা। আসমা খাসির রেজালার ডেকচির ঢাকনা খুলতেই দেখে দুটো জ্বলজ্বলে চোখ করুনভাবে ডেকচির ভেতর থেকে ঠিক আসমার চোখের দিকেই তাকিয়ে আছে। আসমা ঝটপট ঢাকনা বন্ধ করে দেয়।
চোখ:
কি হোলো আসমা বানু, থুক্কু আসমা আহমেদ বারী, ভয় পেলে নাকি? আমাদের জবাই করবার সময় তোমাদের মানুষ নামের মানুষ একটুও ভয় পাওনা। এখন কেনো ভয় পাচ্ছ?
স্পষ্ট শুনতে পায় আসমা এই কথাগুলো। কি অদ্ভুত, কি ঘটছে এসব! এমন ঘটনা কাউকে বললেই সে হয়ে যাবে পাগল সবার কাছে! রেজালার ডেকচিতে ঠকঠক শব্দ হচ্ছে! সবাই পোলাও নিয়ে বসে আছে আসমা কখন রেজালা তুলে দেবে!
চোখ:
খোলো ঢাকনা, নইলে আমি নষ্ট হয়ে সবার পেট খারাপ করে দেবো। শেষে বুলার মায়ের ভীষণ বদনাম হবে বলে দিলাম।
আসমা সাথে সাথে ঢাকনা খুলে প্রায় বন্ধচোখে মাংস তুলে দিতে চেষ্টা করছে কিন্তু মাংস উঠছেনা চামচে। চৈতী পরাণ মাঝির প্লেট ধরেছে আসমার সামনে মাংসের জন্য। আসমা দুইতিনবার প্লেটে কি দিচ্ছে বুঝতে পারছেনা সে!
চৈতী:
কিরে মাংস নাই ডেকচিতে?
এই কথায় আসমা ফিরে তাকায় চৈতীর দিকে এবং ‘উ’ শব্দ করে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে প্লেটের দিকে, একটুকরো মাংসও নেই প্লেটে!
চোখ:
তোমার যদি এতোই ভাবনা আমায় নিয়ে তবে আমায় ছেড়ে অন্যকিছু সার্ভ করোনা কেনো?
আসমা ডেকচিতে চামচ ফেলে উঠে দাঁড়ায়! চট জলদি বুলার কাছে গিয়ে সালাদের বাওল প্রায় কেড়ে নেয়!
আসমা:
বুলা তুই মাংস বাইরা দে, আমি সালাদ দেই সবাইরে!
আসমার আচরণে সবাই একটু অবাক হয়ে যায়। কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে ভেবে খাবার সময় নষ্ট না করে পরে জানতে হবে কি সমস্যা! বুলা উঠে যায় রেজালার ডেকচিতে। বেড়ে দিতে থাকে মাংস সবার পাতে। রেজালার পর তুলসীর কাছে মুরগীর রোষ্ট। এরপর সবশেষে সালাদ আসমার কাছে। সালাদ তুলে দেয় আসমা সবার প্লেটে ক্রমানুসারে। চৈতীকে সালাদ তুলে দিতে গিয়ে আবার আরেক বিপত্তি শুরু হয়। শসা, টমেটো, কাঁচা মরিচ, লেবু, পেঁয়াজ সবাই কথা বলতে শুরু করেছে আসমার সাথে!
টমেটো:
ঐ আসমা তোর হাতে করা বাগানে আমারে দেইখ্যা কি খুশিইনা হস তুই। একটু মায়া লাগতেছে না, আমারে চাবাইয়া খাইতে সবার পাতে দিতে?
আসমা চৈতীর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে! চৈতী একটু অস্থির হয়ে পরে আসমার এই হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করে।
শসা:
ঐ ছেমড়ি, আমারে কাইট্টা লবন লাগাইয়া খাইতে খুব মজা???
পেঁয়াজ:
এরপর আমার কাছে এসে দেখিস তোর চোখে পানির বন্যা বইয়ে না দিতে পারলে আমার পিঁয়াজ জন্ম বৃথা!
সবাই এবার বিষয়টা লক্ষ্য করে খাওয়া বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে আসমার দিকে!
পরাণ মাঝি:
মা, কি হইছে তোমার? শরীর ভালো না লাগলে চলো ফিরা যাই এখনই!
বুলবুল:
কিরে তুই এমন ভয় পাচ্ছিস কেনো???
চৈতী খাবার রেখে উঠে যায় আসমার কাছে। খুব আদর করে বুকে টেনে নিয়ে পিঠে মাথায় হাত বোলাতে থাকে আর দোয়া পড়তে থাকে অবিরত। পরাণ মাঝি খাবারের প্লেট রেখে হাত ধুয়ে চোখ বন্ধ করে মন্ত্র পড়তে শুরু করে। কিছুক্ষনের মধ্যেই আসমা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ভুলেই গেছে আসমা তার এই কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া ব্যাপারটি।
আসমা:
কিরে, তোরা সব খাবার রাইখ্যা বইসা আছিস কেন? আয় একসাথে খাওয়া শুরু করি। পরাণ মামা তোমার চোখের পানি মোছো! আয় চৈতী আমি আর তুই এক প্লেটে খাই। কিরে খাবি? তুইযে সুচিবাই ওয়ালা মানুষ, থাক, আমারে একটা প্লেটে খাবার বাইরা দে।
চৈতী তার প্লেট নিয়ে আসমার মুখোমুখি হয়ে প্রথমে আসমার মুখে পরে নিজের মুখে তুলে নিয়ে খেতে থাকে।
সুকুমার:
হায় ভগবান! আমার কেন আসমার মত কিছু হইলনা!
তুলসী:
মামু তুমি সেই আশা ছাইড়া দাও। তোমার মত বান্দর চৈতীর হাতের খাওন মইরা গেলেও পাইবানা!
বুলবুল:
তুলসী তোর কথা একেবারেই ঠিকনা। আমাদের মইধ্যে নরম মনের মানুষ এই একজনই, চৈতী!
বুলা:
খাইছে আমারে, চৈতী, নরম মন! বুলবুল তুই ঠিক আছস?
বলেই বামহাত দিয়ে বুলবুল ঠিক পাশে বসা বুলার কপাল ছুঁয়ে দেখে!
বুলবুল:
কপালতো এক্কেরে বরফ, এমন ভুল বকা শুরু করলি কেনরে বুইল্যা?
সবাই খেতে খেতে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। পরাণ মাঝি সবার আনন্দে গোপনে নিজের চোখের জল খুব সন্তর্পনে আড়াল করলো। বাবু নিশ্চুপ খেয়ে যাচ্ছে আর বারবার চৈতীকে দেখছে কি মমতায় সে আসমাকে খাওয়াচ্ছে! খাবার শেষ করে গুছিয়ে নিলো সবকিছু হাতে হাতে। খুব যত্ন করে মোহনচাঁদ মিষ্টান্ন ভান্ডারের দই ও রসগোল্লা নিয়ে এসেছে পরাণ মাঝি। নিজে হাতে সবাইকে খাওয়াবে পরিকল্পনা ছিলো তার। কিন্তু চৈতীকে নিয়ে সুকুমারের মিষ্টি দুষ্টামীকে মিষ্টিকরে ভণ্ডুল করতে চৈতীকে দিলো মিষ্টান্ন পরিবেশনের জন্য। কি করে বুঝতে পারলো চৈতী পরাণ মামার মনের ইচ্ছের কথা সে আল্লাহতায়ালাই জানেন। একটা বড় বাওল ধুয়ে সেখানে পরাণ মাঝির মিষ্টি দই রসগোল্লা ও বুলার মায়ের গুড়ের পায়েস আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করে উঠে দাঁড়ালো।
চৈতী:
ঐ বান্দরের দল গোল হইয়া বস। পরাণ মামা তুমি বসো মাঝখানে।
পরাণ মাঝিকে মাঝে রেখে সবাই গোল হয়ে বসলো। চৈতী নিজের হাত ভালো করে পরিষ্কার করে প্রথমে পরাণ মাঝির কাছে গেলো।
চৈতী:
মামা, তুমি এই মিষ্টান্ন আইজকা নিজের হাতে খাওয়াইতে চাইছিলা, কিন্তু সুকুমার বান্দরের দুষ্ট মিষ্টি কথায় মত পরিবর্তন কইরা চাইলা আমি যেনো খাওয়াই নিজের হাতে সবাইরে! এই নাও তোমারে দিয়াই শুরু করি। এরপর একে একে সবাইকে মিষ্টান্ন খাওয়ালো চৈতী হাত দিয়ে।
পরাণ মাঝি:
জননী, তুমি কি অন্তর্যামী? কেমনে বুঝলা আমার মনের কথা?
বাবু:
পরাণ মামা, তোমার অন্তরের অনেক কথাই আমরা বুঝতে পারি। আমাদের বাল্যকাল থেইক্যা এই পর্যন্ত তুমি আমাদের আনন্দের জন্য কিনা করছো।
পরাণ মাঝি এবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। বুলা উঠে গিয়ে পরাণ মাঝিকে জড়িয়ে ধরলো। যেনো মেয়ে তার বাবার কষ্টে তাকে সান্তনা দিচ্ছে। তারপর একে একে সবাই পরাণ মাঝির চতুর্দিক ঘিরে এক মহা মায়ার উদাহরণ সৃষ্টি করলো।
সব জিনিসপত্র নৌকায় উঠিয়ে ফেলা হলো। বিকেলের মধ্যে রওনা দিতে হবে। সন্ধ্যার আগেই সবাই ঘাটে অপেক্ষা করবে।
চৈতী:
পরাণ মামা, তুমি একটু পারলে ঘুমাইয়া নেও। আমরা রানীদীঘিটা এক নজর দেইখ্যা ফিরলেই রওনা দিমু।
পরাণ মাঝি নৌকায় রয়ে গেলে। হানাদলের সাতজন ছুটলো রানীদীঘি অভিমুখে। পাঁচ ছয় মিনিটে পৌঁছে গেলো সবাই দীঘিপারে। কি সুন্দর করে সান বাঁধানো দীঘি। অনেক মানুষ দেখা যাচ্ছে এখন। চৈতী আসমা এবং বুলাকে কানে কানে কিছু বললো। বাবু, তুলসী, বুলবুল, সুকুমার ওদের কানাকানি কিছুই টের পেলোনা। দীঘির পার দিয়ে হেটে হেটে চারপাশটায় সাজানো নানান ফুলের এবং হরেক ওষুধি গাছ দেখাটাই মুলত এই দীঘির মূল আকর্ষণ। সেই কোনকালে রাজা তার রানীকে যুগযুগ ধরে পৃথিবীর বুকে স্মরণীয় করে রাখতে কি পরিকরল্পিত দীঘি, দীঘির পার সাজিয়েছেন। সুকুমার, বাবু, তুলসী, বুলবুল খুব মনোযোগ দিয়ে ওষুধি গাছ, ফুল দেখে দেখে এগিয়ে চলেছে। চৈতী খুব সন্তর্পনে আসমা বুলাকে নিয়ে পেছন দিকে নৌকা অভিমুখে দিলো দৌড়।
পরাণ মাঝি ঘুমায়নি। ছেলেমেয়েগুলোকে রেখে সে কিভাবে ঘুমাবে। তাকিয়ে ছিলো ওদের ফিরতি পথের দিকে। হঠাৎ তিনকন্যাকে দৌড়াতে দেখে ভয় পেয়ে পরাণ মাঝি নেমে এগিয়ে যেতে থাকে আসমা, বুলা চৈতীর দিকে! একি এরা অমন হাসছে কেনো। তাহলে নিশ্চয়ই কোনো দুষ্টবুদ্ধি ভর করেছে চৈতীর মাথায়। মেয়েটা পারে বটে। কখন কি করে না করে একেবারেই কখনো ভাবেনা। অথচ আজ অবধি মেয়েটির কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি মাঝি।
চলবে…….
ফজলুল বারী বাবু,
ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং,
লন্ডন, যুক্তরাজ্য।



