
সৈয়দ আনোয়ার রেজা,
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাঙালি জাতির ত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ের এক মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত বিজয়ের এই দিনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি গড়ে তোলে। সেই ঐতিহাসিক দিনের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে লিডস বাংলাদেশি কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যোগে ২১ ডিসেম্বর এক বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় বিজয় দিবস।
দু’পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানটি লিডসের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য হয়ে ওঠে এক ঐতিহাসিক মিলনমেলা। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে শুরু হওয়া এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতা এবং স্বাধীনতার মহিমা তুলে ধরে।
প্রতিযোগিতার পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। বিসিএল-এর সভাপতি ওয়েছ মিয়া তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, “বিজয়ের দিন আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। প্রবাসে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের সামনে এই ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি লিডস ইস্টের সংসদ সদস্য রিচার্ড বার্গান বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল স্বাধীনতার সংগ্রাম নয়, এটি বাঙালি জাতির সাহস, ঐক্য এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সামনে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
বিশেষ অতিথি কাউন্সিলর আব্দুল হান্নান এবং মতিন আলী তাঁদের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও প্রবাসে তার প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সালিক মিয়া, দব্বির মল্লিক, শাহ আবুবকর,জালাল উদ্দিন,আফজাল হুসেন,সৈয়দ কবির আহমেদ,সাব্বির আলম কোরেশী,শাহ্ ইয়াওর,নূর মিয়া,আনোয়ার গাণি, চ্যানেল এস ইয়র্কশায়ার ব্যুরো প্রধান এম.জি. কিবরিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবিতা পাঠ এবং সংগীত পরিবেশনা। বিশিষ্ট কবি আহমেদ শাহনুর এবং সাব্বির আলম কোরেশীর কবিতাপাঠ শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। তৌফিক জামান এবং রাজন চৌধুরীর সঙ্গীত পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আবুল আবেদীন শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য এবং বিজয় দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পুরো মঞ্চ লাল-সবুজের সাজসজ্জায় হয়ে ওঠে বাংলাদেশি ঐতিহ্যের প্রতীক।
লিডসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা এবং জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার অটুট। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে ১৯৭১ এর গৌরবগাথার সঠিক ইতিহাসের বীজ বার বার বপন করুন এই প্রত্যাশা আমাদেরও।


