প্রবাস
লন্ডনে “সপ্তসুরে বাঁধন হারা”: লাবনী বড়ুয়ার একক সংগীত সন্ধ্যায় মুগ্ধ দর্শকরা

প্রতিবেদক সৈয়দ আনোয়ার রেজা,
৭ এপ্রিল ২০২৫: লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত খ্যাতনামা সাংস্কৃতিক মঞ্চ রিচমিক্স মিলনায়তনে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বৃটিশ-বাঙালি সংগীতশিল্পী লাবনী বড়ুয়ার একক সংগীতানুষ্ঠান সপ্তসুরে বাঁধন হারা। প্রবাসে বাংলা সংগীতের এমন ঘোরগ্রস্ত এক বিকেলে শ্রোতারা যেন হারিয়ে গেলেন স্মৃতির গহিনে।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী তানজিনা নূর-ই সিদ্দিকী তাঁর অনবদ্য উপস্থাপনার মাধ্যমে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মঞ্চে আসেন লাবনী বড়ুয়া। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন বাংলা সংগীতের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তিদের। এরপর একে একে পরিবেশন করেন বিবিধ বর্গের উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীত নজরুলগীতি ,গজল, রাগপ্রধান এবং সত্তর, আশি ও নব্বই দশকের জনপ্রিয় আধুনিক বাংলাগান।
তাঁর সংগীতে সঙ্গত করেন তবলায় পিয়াস বড়ুয়া, কীবোর্ডে শ্রী সুনীল যাদব এবং অক্টোপ্যাড রিজান আহমেদ। সন্ধ্যার বিশেষ চমক ছিল ইউক্রেনীয় সংগীতশিল্পী একা কাটেরিনার সঙ্গে বাংলা গানের সমবায়ী পরিবেশনা, যা দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

সংগীত অনুরাগীদের কেউ কেউ মনে করেন প্রবাসে আমাদের শিকড়ের সঙ্গেও মেলবন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রয়াস প্রতিভাত হয়েছে লাবনী আনবাউন্ডেড অনুষ্ঠানে।
এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় চিত্রশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী নাজিয়া আমিন বলেন, লাবনী বড়ুয়ার মতো শিল্পীরাই যেন প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির আলো জ্বালিয়ে রাখছেন।
গ্লো-উইম্যান এর প্রতিষ্ঠাতা স্নিগ্ধা মিষ্টি বলেন,এধরনের আয়োজন আরও বেশি করে করা প্রয়োজন, এসব উদ্যোগ আমাদের আত্মপরিচয়ের স্বাক্ষর বহন করে।
অনুষ্ঠান শেষে সংক্ষিপ্ত বন্তব্য রাখেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত চিরঞ্জীব চক্রবর্তী, সৌধ-এর পরিচালক ও কবি টি এম আহমেদ কায়সার প্রমুখ।
একজন তরুণশিল্পীর কোনো একক গানের অনুষ্ঠানে টিকেট কেটে এরকম কানায় কানায় পূর্ণ দর্শকরা উপস্থিত হয়েছেন এবং আদ্যোপান্ত এভাবে উপভোগ করেছেন- এরকম ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। অনুষ্ঠানে বৃটেনের বিপুল সংখ্যক কবি লেখক সঙ্গীতশিল্পী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। সব্যসাচী সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় দে, উপশাস্ত্রীয় শিল্পী ফারজানা সিফাত, আবৃত্তিশিল্পী পপি শাহনাজ সহ অনেককেই দর্শক সারিতে বসে গান উপভোগ করতে দেখা যায়।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে লাবনী বড়ুয়া বলেন,
“এমন ভালোবাসা আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে বাংলা সংগীতকে আরও বহুদূর পৌঁছে দিতে চাই।”
উল্লেখ্য লাবনী বড়ুয়া ২০১৪ সালে হাউস অব কমন্সে ‘Hundred Years of Tagore’ অ্যালবামে অংশগ্রহণ করেন ।২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে বৈশাখী স্টার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০১১ সালে প্রকাশিত তাঁর অ্যালবাম মেঘলা ছেলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।


