বাংলাদেশ

আকাশ থেকে নেমে এলো বিভীষিকা: বিধ্বস্ত বিমান, শোকাহত বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: মুমতা হেনা মীম,

২১ জুলাই ২০২৫, একটা ঝাঁ চকচকে রোদেলা দুপুর। রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকার দিয়াবাড়ি তখন ব্যস্ততার ছন্দে চলছিল। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষে। কেউ পড়ায় মনোযোগী, কেউ জানালার পাশে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকছে। কিন্তু হঠাৎ আকাশ ফুঁড়ে নেমে এলো এক নারকীয় তাণ্ডব, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে সরাসরি স্কুল ভবনে আঘাত হানে।

হঠাৎ করেই এলোমেলো হয়ে গেলো সবকিছু!

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তারা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ১১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেলে ২৩ জন, শিনশিন জাপান হাসপাতালে ১১ জন, ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৫ জন, লুবানা হাসপাতালে ২০ জন, ইস্টওয়েস্ট হাসপাতালে ১ জন, মুনসুর হাসপাতালে ৮ জন এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

আইএসপিআরের (আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমানটি কুর্মিটোলার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হয়। পাইলট, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম, তাঁর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান যেন বিমানটি জনবহুল এলাকা এড়িয়ে খোলা জায়গায় নামাতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিমানটি দিয়াবাড়ির মিলস্টোন স্কুল ও কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। তার এই বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হয়তো বড় মাপের আরও প্রাণহানি ঠেকিয়েছে, কিন্তু যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়।

বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা একযোগে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। হেলিকপ্টার ও অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্যে আহতদের দ্রুত সিএমএইচ (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) ও অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়।

বিমানবাহিনীর সহকারী প্রধান (প্রশাসন) এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন, কারণ বিমান বাহিনী প্রধান সরকারি সফরে দেশের বাইরে আছেন ।

বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত এখনো চলমান,

জনমনে উদ্বেগ, উঁকি দিচ্ছে বেশ কিছু প্রশ্ন—

পুরনো মডেলের FT-7 বিমান এখনো প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা ঠিক কতটা নিরাপদ?

প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক বিমান কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না?

এখন এই দূর্ঘটনার দায় নেবে কে?

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close