কমিউনিটি
আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে ওয়েলস ডিভিশনের বার্ষিক সাধারণ সভা ও নেতৃত্ব সম্মেলন সম্পন্ন

ইসলাম কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয় বরং এটি একটি পরিপূর্ণ জীবনদর্শন।যা মানব সমাজের সর্বস্তরে যুগে যুগে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে এসেছে। নৈর্ব্যক্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সভ্যতার চাপে ক্ষয়িষ্ণু ধর্মীয় মূল্যবোধ যখন বিপন্নপ্রায়, তখনও কিছু দীপ্তিময় সংগঠন সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার আলোকবর্তিকা বহন করে চলেছে নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসে। সেই ধারায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’ সুদীর্ঘকাল যাবৎ নিঃস্বার্থভাবে ইসলামের মৌলিক আকিদা, শান্তির বার্তা ও নৈতিক উন্নয়নের সোপান নির্মাণে নিবেদিতপ্রাণ রয়েছে।
এই সংগঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ অলীকে কুল, শামসুল উলামা হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. ১৯৭৯ সালে। আজ তা দেশীয় সীমানা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসলামী দাওয়াত, সামাজিক দায়িত্ব ও মানবিক পুনর্গঠনের অনন্য এক রূপরেখা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
এই গৌরবময় উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায়, ২১ জুলাই ২০২৫, রোববার দ্বিপ্রহরে, ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে অবস্থিত বাংলাদেশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকে ওয়েলস ডিভিশন’-এর বার্ষিক সাধারণ সভা, নেতৃত্ব সম্মেলন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজ। কার্ডিফ, সোয়ানসী, নিউপোর্টসহ ওয়েলসের বিভিন্ন নগরী থেকে আগত প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি পরিপূর্ণতা লাভ করে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিভিশনাল প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ। সমবেত সঞ্চালনায় ছিলেন ডিভিশনাল সেক্রেটারি আনসার মিয়া এবং যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির মর্যাদা গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারিজ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও মোহাম্মদ বদরুল ইসলাম, শাহজালাল মসজিদের খতীব মাওলানা কাজী ফয়জুর রহমান, জালালিয়া মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ও বিশিষ্ট কাউন্সিলার দিলওয়ার আলী।
সম্মেলনের সূচনালগ্নে পবিত্র কোরআন মাজিদ থেকে আবৃত্তি করেন হাফিজ তৌয়াহিদুল হক এবং হৃদয়গ্রাহী নাতে রাসূল পরিবেশন করেন হাফিজ জালাল উদ্দীন।
এরপর আর্থিক প্রতিবেদনের পুঙ্খানুপুঙ্খ উপস্থাপন করেন ট্রেজারার শাহ মোহাম্মদ তসলিম আলী। বার্ষিক কার্যক্রম প্রতিবেদন প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করেন সেক্রেটারি আনসার মিয়া। উক্ত প্রতিবেদনসমূহের উপর নেতৃবৃন্দ ও অভিজ্ঞ বিশিষ্টজনরা সুদীর্ঘ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণমূলক আলাপ করেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা সম্পর্কে গঠনমূলক মতামত প্রদান করেন।

দ্বিতীয় অধিবেশনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং সম্মানিত প্রতিনিধিদের প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নবগঠিত কমিটি গঠিত হয়। এই নবনির্বাচিত নেতৃত্ব পর্ষদে যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁরা হলেন:
সভাপতি: হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ
সহ-সভাপতিগণ: আব্দুল হান্নান শহীদুল্লাহ, শেখ আনোয়ার, মাওলানা আব্দুল মুক্তাদির
সাধারণ সম্পাদক: আনসার মিয়া
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ মকিস মনসুর
প্রেস ও জনসংযোগ সম্পাদক: মোহাম্মদ আসকর আলী
সাংগঠনিক সম্পাদক: সৈয়দ শামসুল হক রানু
শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মাওলানা আসাদুল হক
প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সম্পাদক: শেখ আব্দুল আজিজ আতিকুজ্জামান
কল্যাণ সম্পাদক: মোহাম্মদ জহির আলী
সদস্য সচিব: ক্বারী এম মোজাম্মেল আলী
সদস্যবৃন্দ: কাউন্সিলার দিলওয়ার আলী, ক্বারী মিনহাজ উদ্দিন জুবের, শাহ গোলাম কিবরিয়া, আলহাজ্ব তৈমছ আলী।
সম্মেলনের সমাপ্তিলগ্নে দেশীয় স্বাদের নানাবিধ রুচিশীল খাবারের মাধ্যমে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ মধ্যাহ্নভোজ। সম্পূর্ণ আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম ও আন্তরিক নিষ্ঠায় ব্রতী ছিলেন, তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন ডিভিশনাল প্রেসিডেন্ট হাফিজ মাওলানা ফারুক আহমদ।



