বাংলাদেশ

সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের তীব্র নিন্দা: স্বাধীন সাংবাদিকতা বিপন্ন দেশে

প্রতিবেদক: পলি রহমান,

সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫।

গাজীপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রতিনিধি মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে। এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নেতৃত্ব তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি প্রাণহানি নয় বরং সাংবাদিক নিরাপত্তা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।

সোমবার লন্ডনের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় পাঠানো বিবৃতিতে ক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ জুবায়ের, সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ সালেহ আহমদ বলেন, তুহিন ছিলেন নির্ভীক ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক। তার নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের স্তম্ভিত করেছে। সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বাংলাদেশ সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা তুহিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তুহিন ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করার সময় হামলাকারীদের টার্গেটে পরেন। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পেছনে চাঁদাবাজি, সংঘবদ্ধ ছিনতাই বা পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ওঠেছে, তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো সব দিক খতিয়ে দেখছে। নিহতের ভাই মোহাম্মদ সেলিম বাসন থানায় অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে বাংলাদেশে সাংবাদিকরা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন। সত্য ও তথ্য প্রকাশ করাই যখন জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন এটি গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এক ভয়ঙ্কর সংকেত।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তুহিন হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না এবং সত্য প্রকাশের অঙ্গীকার থেকে পিছপা হবে না। তারা মনে করেন সাংবাদিক হত্যা করে সংবাদকে হত্যা করা যায় না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তুহিনকে চায়ের দোকানে গিয়ে হামলা করা হয়। প্রথমে তাকে মারধর করে ভিডিও মুছে ফেলতে বলা হয়, পরে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। চায়ের দোকানের একজন চেষ্টা করেছিলেন হামলাকারীদের থামানোর, তবে কাজ হয়নি।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তুহিন নিজের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিও ধারণ করার সময়ই সশস্ত্র হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়।

নতুনদিন পরিবার নৃশংস তুহিন হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি দেশের সকল সাংবাদিককে সতর্ক ও সংহত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close