বিনোদন

স্বপ্ন দর্পণ

প্রথম থেকে দ্বাদশ পর্বের লিংক

স্বপ্ন দর্পণ

 

দশ

পাভেলের দাদা মোক্তার আলী পাকিস্তানের দোসর হয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের সংদদের সাংসদ হয়েছিলো! স্বাধীন দেশে এমন লজ্জাজনক অধ্যায় শুধু শিমুল গঞ্জেই ঘটেনি। ঘটেছে বাংলাদেশ নামক প্রিয় আমার স্বদেশের আনাচে কানাচে, ঘটছে অহরহ দেশপ্রেমিক বাঙ্গালির নাকের ডগায়। এলাকায় মোক্তার আলীর যুদ্ধকালীন অত্যাচারের নিদর্শন হিসেবে আজও কত স্মৃতিচিহ্ন ধূসর আলোয় ভগ্নদেহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেই হিসেবের সাক্ষী চৈতীর নানা এলাহী তালুকদার!

চৈতীর বড় মামা দীর্ঘ সময় জার্মানিতে বসবাস চুকিয়ে দেশে এসে পৈতৃক ব্যবসায় নিজের বৈদেশিক চিন্তা চেতনা ও শিক্ষার প্ৰভাব ঢেলে নতুন করে সাজিয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার কিভাবে যেনো আতা তালুকদার (চৈতীর মামা) জড়িয়ে পরে মোক্তার আলীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে। মুক্তিযোদ্ধা আতা তালুকদারের এমন পরিবর্তনে এলাকার সবাইকে শুধু অবাকই করেনি, আপন পিতার কাছে সে হয়ে যায় অচেনা মানুষ। আত্মীয় স্বজন অনেকভাবে আতা তালুকদারকে এই বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে। অবশেষে বিফল হয়ে দিন গুনতে থাকে, হয়তো একদিন আতা তার পরিবর্তনকে উপলব্ধি করতে পারবে।

মোক্তার আলীর বড় ছেলে মমতাজ আলী! পেশায় ব্যবসায়ী কিন্ত কিসের ব্যবসা তার সেইকথা আজ অবধি বাড়ির লোকজন ছাড়া কেউ জানতে পারেনি। অদ্ভুত ধরণের চাল চলনের জন্য খুব প্রয়োজন না হলে কেউ মমতাজের মুখোমুখি হয়না। একাত্তরে যখন সারাদেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধ চলছে, তখন মোক্তার আলী তার জেষ্ঠ্যপুত্র মমতাজ আলীকে বিয়ে দেয় বেশ ধূমধামের সাথে। বিয়েতে শিমুল গঞ্জের মিলিটারী ক্যাম্পের কেউ বাদ ছিলোনা। অন্যদিকে গঞ্জের অন্য কেউই উপস্থিত ছিলোনা। মিলিটারির অত্যাচার শিমুলগঞ্জকে তখন প্রায় জনশূন্য করে তুলেছিল।

সন্ধ্যা থেকেই কাজী সাহেবকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। শেষে মসজিদের ইমাম সাহেবকে রাইফেলের মুখে উঠিয়ে এনে যখন বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়, তখন রাত প্রায় নয়টা। খাওয়া দাওয়া শেষ হতে হতে মধ্যরাত হয়ে গিয়েছিলো। ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আতাহার খানের মনোরঞ্জনের জন্য তুলে আনা হয়েছে এক অভাগিনীকে। চোখ তার বাঁধা! যুবতীর চোখের জল কালো কাপড়কে ভিজিয়েও রক্ষা করতে পারেনি হায়েনার হাত থেকে তাকে!

বিয়েবাবাড়ী হঠাৎ নিশ্চুপ নীরবতায় আছন্ন।
ভেতর বাড়ীর এক সজ্জিত কক্ষে তখন চলছে জুলুমের বাসর। যে সব উপাদানে আজ এই পিশাচের বাড়ী এবং অর্ধ উন্মাদের ফুলশয্যা সাজানো হয়েছে, তারা যেনো শোকের দাবানলে পুড়ে অভিশাপ দিচ্ছে অনবরত! ঠিক একই সময়ে মিলিটারী ক্যাম্পে চলছিলো নারকীয় উল্লাস, যে উল্লাসের কাছে মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিলো বকুল, সুফিয়া, রত্না, কুসুমের লজ্জার, অপমানের, হিংস্রতম আচরের করুনতম আর্তনাদ!

কিভাবে এই দেশের শাসনকাল এর মূল্যায়ন করেছে, করছে! কতটাইবা করতে পেরেছে মূল্যায়ন! পিছন ফিরে তাকালে স্বাধীন দেশে হরেক রঙ্গের পট পরিবর্তনে শুধু সুবিধাবাদীদের জয়জয়কার লক্ষ্যনীয় নয়। কোনো এক শাসনকাল পুনর্বাসন করেছে নষ্টবীজের সেইসিব কুলাঙ্গারদের, যারা প্রকাশ্যে সেই নয়মাস খাবলে, ছিঁড়ে বাংলামাকে একেবারে উলঙ্গ করতে এতটুকু কুন্ঠাবোধ করেনি! আজও একটু ভিন্ন দৃষ্টির অনুসরণে যদি লক্ষ্য করি তবে আজও কত ক্ষেত্রবিশেষে আমরা পরাধীন।

স্বপ্ন দর্পণ

এগারো

বাবুর ফ্লাইট অবতরণের সময় এখন থেকে হিসেব করলে প্রায় ঘন্টা দুয়ের ব্যাপার। চৈতী আগেই ঠিক করে রেখেছিলো সুকুমারকে চমকে দিতে বাবুর কথা বলবেনা। তাই একেবারেই নিছক অজুহাতে বিমান বন্দরের ভেতরেই একটি পিজ্জা শপে বসে সবাই মিলে কিছু খেয়ে নিচ্ছে! কিন্তু অতুলের কাছে এই পিজ্জা একেবারেই অখাদ্য মনে হচ্ছে!

অতুল:( চৈতীর কানের কাছে মুখ নিয়ে )
পিসিমনি, তোমার হাতের পিজ্জা একেবারে সেফক্লাস! এখানে কেনো খেতে হচ্ছে!?

চৈতী:( একইভাবে চৈতী ফিসফিস করেঅতুলের কানে )
তোর বাবাকে একটা সারপ্রাইজ দেবো, তাই এখানে আরো দুই ঘন্টা আমাদের থাকতে হবে। তোর মুখটা শুকিয়ে কি হয়েছে দেখেছিস? তাইতো এখানে খেতে বসেছি। নইলেকি আমার অতুল সোনাকে এই পঁচাপিজ্জা খাওয়াই!!

অতুল:
সারপ্রাইজটা আমায় বলবে? আমি কাউকে বলবো না!

চৈতী:
নিশ্চয়ই বলবো। ( চৈতী তার মুখটা অতুলের কানের আরো কাছে নামিয়ে )
তোর বাবু কাকু আসছে কানাডা থেকে। কি সারপ্রাইজটা খুব মজার না?

অতুল:( ফিসফিসিয়ে )
একেবারে জোস!!!!

অতুলের মুখে জোস শব্দ শুনে চৈতী আর হাসি সামলে রাখতে পারলোনা! এমন উচ্চস্বরে হেসে উঠলো যে আশেপাশে সবাই এক ঝলক চৈতীর দিকে না তাকিয়ে পারলোনা।

সুকুমার:
তোর ভ্যাটকি হাসি আর শুধরাইতে পারলিনা ভুতনী!

এই কথায় এবার চৈতীদের টেবিলের সবাই হেসে প্রায় গড়াগড়ি দেবার অবস্থা। ফোন বাজছে চৈতীর। পারভেজ ভাইয়ের ফোন।

চৈতী:
সালাম ভাইজান। আপনি কতদুর?

পারভেজ:( মোবাইলের অন্যপ্রান্তে )
আমি গাড়ী পার্ক করে আসছি এই কয়েক মিনিটের মধ্যে। আপনারা পিজ্জা সপেই আছেনতো?

চৈতী:
জ্বি ভাই, আমরা খাচ্ছি। আপনাদের জন্য অর্ডার দেয়া আছে, এলেই গরম গরম খেয়ে আমরা রওনা দেবো বাড়ীর দিকে। জ্বি, জ্বি, আপনি আপনার মত আসুন।

পারভেজ:
বাবুভাই আমি পৌঁছাতে পৌঁছাতে বের হয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ!

চৈতী:
খুব ভালো! আসুন তাহলে! না, আপনি আসুন আমরা আছি এখানেই।

চৈতীর চোখেমুখে এক আনন্দ বয়ে গেলো লক্ষ্য করলো শ্রাবন্তী।

শ্রাবন্তী:
দিদি ভাই ঠিক আছো?

স্রাবন্তীর প্রশ্নে হঠাৎ অপ্রস্তুত হয়ে পরে চৈতী। একটুও বুঝতে কষ্ট হয়না শ্রাবন্তীর চোখকে সে ফাঁকি দিতে পারেনি! মনের প্রফুল্লতা তার চোখে মুখে ফুঁটে উঠেছে তার সবটাই শ্রাবন্তীর নারী চক্ষু অবলোকন করেছে পুংখানুপুংখভাবে!

সুকুমার:
পারভেজ ভাইকি তার মিউজিক ভ্যান নিয়ে আসছে?

চৈতী:
হ্যা, আমার সেভেন সিটারে তোর জায়গা নেই। তুই পারভেজ ভাইয়ের সাথে গান শুনতে শুনতে আসবি।

সুকুমার:
জীবনে এই প্রথম তুই আমার মনের মত একটা কাম করলি। নইলে তোর অত্যাচার, উফ!!

রাতুল:
কাকু, ভুল বললে। মা কথায় কথায় তোমার পড়াশোনা, তোমার মেধা, তোমার জ্ঞান, বুদ্ধির কথা শোনাতে শোনাতে আমাদের দুই ভাইবোনকে তোমার ফটোকপি বানিয়ে ছেড়েছে!

সুকুমার:
কি বলিস বাবা? এতো দেখছি ভূতের মুখে রামনাম! আর তুই এই বয়সে মেধা, জ্ঞান এমন কঠিন বাংলা শিখলি কিভাবে এই বয়সে? বুঝিস এর অর্থ ঠিকমত?

রাতুল:
আমাদের মা কতবড় শিক্ষক আমাদের তুমি জানো? ঘরে একটিও ভিনদেশী শব্দ চলেনা। মা আমাদের সব!

রাতুল চৈতীর বামপাশে বসে ছিলো। গভীর মমতায় ছানাবাচ্চাকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবার নিজের চোখের কাজল নষ্ট করে ফেলতে লাগলো। সুকুমারের পাশে ছিলো মৃদুলা। সে আর বসে থাকতে পারেনি। উঠে গিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে। অতুল কখন চৈতীর বুকের সাথে রাতুলের মুখোমুখি সে টেরই পায়নি। এই হচ্ছে তার চৈতী পিসি, একই বুকে কতজনার জন্য তার মমতা ছড়ানো এই অল্প বয়সে একটুও বুঝতে কষ্ট হয়নি। সুকুমার স্রাবন্তীর হাত ধরে একদৃষ্টিতে দেখছে তার সেই দুরন্তপনায় সেরা বন্ধুটির স্নেহের উদারতা। অজান্তেই স্রাবন্তীর মাথা সুকুমারের ঘাড়ে নেমে এসেছে, চোখে তারও লোনাজলের স্রোত বয়ে যাচ্ছে সুখানুভবের অতলে!

স্বপ্ন দর্পণ

বারো

মোবাইল ফোনের উপকারিতা মানব জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে তার হিসেব কেউ করতে পারবেনা। দিনে দিনে একই সাথে মোবাইল ফোনের অপকারিতা, বিপদের শেষ নেই, নেই বিরক্তির সীমারেখা। তবে বিরক্তির বিষয়টা সম্পূর্ণই যার যার ফোন ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। যেমন চৈতী পারত পক্ষে কেউ কল দিলে রিসিভ না করে পারেনা। অনেক সময় অন্যপ্রান্তের আলাপি বুঝতেও পারে চৈতীর বিরক্তির উদ্রেক হচ্ছে, কিন্তু আলাপ করতে থাকে।

চৈতীর এক ক্লায়েট ফোন করেছে। প্রথমে ভেবেছে কোনো নতুন গাছের সংবাদ দিতে মি: ভলভগাং ফোন দিয়েছে। সচারচর তাই হয়, কিন্তু আজ সে একেবারেই ভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ শুরু করেছে যার জন্য চৈতী শুধু প্রস্তুতই নয়, ধারণাও করতে পারেনি। কি এক মাইনকার চিপায় পরে গেলো চৈতী! পারভেজ ভাই ম্যাসেজ পাঠিয়েছে বাবু আর কয়েক মিনিটের মধ্যে বের হয়ে আসবে। সেই কয়েক মিনিট পার হতে চলেছে। কি মুসিবত! সব চমক, নাটকীয়তা বুঝি ভেস্তে যেতে বসেছে। হঠাৎ চৈতীর মাথায় দুষ্টবুদ্ধি খেলে গেলো। সে সেই কিশোরী চৈতী এবার। ঝট করে ফোনটা সুকুমারের হাতে দিয়ে বললো,”বাংলায় কথা বল, পারলে গালি দে দুই একটা”! “গালি আবার সেই শিমুল গঞ্জে যা দিতি তাই দিসনা, পোলাপান আছে মাথায় রাখিস”! ফিসফিসিয়ে শেষ কথাগুলো বলার আগেই সুকুমার মোবাইলে ঝেড়ে দিলো দুই চাইরখান গালি,”চুপ হালারপুত, রং নাম্বার”! অন্যপ্রান্তে ফোন কেটে দেবার টোন শুনে সুকুমার মোবাইলটা চৈতীর হাতে ফিরিয়ে দেয়।

সুকুমার:
মামায় মাইনষের সন্তান হইলে আর তোরে ফোন দিবোনা।

দুইবন্ধুর কান্ড কারখানায় উপস্থিত আন্ডাবাচ্চা, সাথে শ্রাবন্তীর মস্তিষ্কের এন্টিনা প্রায় অকেজো হবার অবস্থায়। চৈতীর ভেতরে কেমন এক অস্থিরতা লক্ষ্য করে সুকুমার! এই চৈতীকে খুব অচেনা লাগছে। হঠাৎ চৈতীর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখে সুকুমার। শ্রাবন্তী বাচ্চাদের সাথে কি একটা সুপার ম্যান নিয়ে গল্প করছে। একমাত্র মৃদুলা মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। সে জানে মায়ের মনটা এই মুহূর্তে উৎফুল কেনো। সুকুমার এবং চৈতী টেবিলের দুইপ্রান্তে মুখোমুখি। মৃদুলাও ঠিক মায়ের বিপরীত প্রান্ত তার কাকুর পাশেই। সুকুমার মৃদুলা দুজনেই চৈতীর চোখে চোখ রেখে ভাবছে কত কথা। বাবুই ঠিক সুকুমারের পিছনে দাঁড়িয়ে। রাতুল অতুল শ্রাবন্তী দেখে ফেলে। বাবু ইশারায় সবাইকে শান্ত হতে না বললে অতুল মাত্রই চেঁচিয়ে উঠেছিলো!

চৈতী এবার সুকুমারের চোখের দিকে চোখ ফেরায়। সুকুমারের চোখের ভাষা পড়তে মুহূর্তকাল লাগেনা চৈতীর। পরক্ষনেই মৃদুলার চোখেও চোখ পরতেই তার চোখে চৈতী এক কিশোরী দুষ্ট হাসি দেখতে পেয়ে সেই নিজের কৈশোরকে ফিরে পায় মনের নাগালে। বাবুর হাত খুব সাবধানে সুকুমারের চোখ চেপে ধরে। মৃদুলা ঘাড় ঘুড়িয়ে চুপ করে যায়! সুকুমার হাতবন্ধ চোখে নিশ্চুপ। মৃদুলা চেয়ার ঠেলে উঠে বাবুকে পেছন থেকে জাপটে ধরে! বাবুর পৃথিবী বদলে যায় এক সন্তানের স্পর্শে, চোখ ভিজে যায় মুহূর্তে, গড়িয়ে পরে অশ্রুর ফোটাফোটা বৃষ্টি ঠিক সুকুমারের মাথায়। সুকুমারের চোখে জলের স্পর্শ পেয়ে বাবুর বুঝতে কষ্ট হয়না,”বন্ধুর কাছে সে কোনোকালেই অচেনা ছিলোনা’। সুকুমার হাত ছাড়িয়ে নেয়না চোখ থেকে, মৃদুলার জড়িয়ে থাকাকে আরো জড়িয়ে নিতে বাবুর চোখের লোনা জলকে থামতে প্রানপন অনুরোধ করে, কাজ হয়না।

অতুল আর চুপ থাকতে পারেনা। বাবু কাকু বলে চিৎকার দিয়েই চেয়ার ছেড়ে একেবারে মৃদুলার সাথে নিজেকে জড়িয়ে ঠিকই বাবু কাকুর স্পর্শ নিতে শুরু করে। রাতুল মায়ের একেবারে কাছে গিয়ে চুপটি করে তার হাতটি ধরে থাকে। পারভেজ এই দৃশ্যের সাথে একেবারেই পরিচিত নয়। শ্রাবন্তী সুকুমারের পাশে গিয়ে বসে স্বামীর হাত ধরতেই টের পায় সুকুমার চোখের লোনা স্রোতে ফিরে গেছে শিমুল গঞ্জের শিমুল তলায়।

এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলো পারভেজ।

পারভেজ:
বাসা বাড়িতে ফিরবেন, না এইখানেই হোটেল বুক করুম?

চৈতী:
মন্দ হয়না ভাই, মনিকারে বলেন সপের চাট্টিপট্টি গোল কইরা চইলা আসতে!

পারভেজ:
আমি কিন্তু ফোন দিলাম চৈতী, পরে কইয়েন না আমি একটা পাগল!

আবার এক আকাশ খোলা হাসিতে আলোকিত হয়ে উঠলো ভিয়েনা বিমান বন্দরের এই চত্বর। রুটিন মাফিক হেটে যাচ্ছিলো সেই এয়ারপোর্ট পুলিশ যুগল!

নারী পুলিশ:
তোমরা এখোনো এখানে? তোমাদের কি বাসাবাড়ি বিক্রি করে এসেছো?

চৈতী নারী পুলিশটির হাসিতে যোগ দিতে এগিয়ে যায় তার কাছে।

চৈতী:
ঠিকই ধরেছ, আমরা ভাবছি কাছে কোন একটি হোটেলে বুকিং দেবো।

পুরুষ পুলিশ:( ঠাট্টার ছলে ) এক কাজ করি, তোমাদেরকে যেকোনো একটা অকেজো কেসে জড়িয়ে আমাদের থানায় নিয়ে যাই। পরিবার পরিজন দেখে আমাদের বড় কর্তা তোমাদের নিশ্চিত রাতে ভালো কোথাও রাখবার ব্যবস্তা করবেন।

আজকে হাসির ঝড়ে ভিয়েনা বিমানবন্দর না শেষ অবধি খানখান হয়ে যায়! সুকুমার বাবুর হাত ধরেই আছে।

স্রাবন্তী;
দিদিভাই এবার চলো, তোমার হাতের খাবার নিশ্চয়ই রেডী আছে ঘরে? পিজ্জা খেয়ে ক্ষুধা মাথার দরজায় নক করতে শুরু করেছে।

চৈতী:
ওকে ওকে সবাই চলো এবার। বাবু তুমি কি পারভেজ ভাইয়ের গাড়িতে উঠবে?

বাবু:
আমি আমার এই তিন সন্তানের সাথে উঠবো।

সুকুমার:
আমি পারভেজের সাথে উঠি, ওর নতুন কম্পসিশন শুনতে শুনতে যাবো।

শ্রাবন্তী:
আমি আমার পতিদেবের লেজুর ছাড়ছিনা। আর গানকি তুমি একাই ভালবাসো গুরু? আমিও ছায়ানট পাস করা ছাত্রী। চলো এই কথায় হাসাবার দরকার নেই।

বলে নিজেই হাসতে শুরু করলো শ্রাবন্তী। গাড়ি হাইওয়েতে! মায়ের পাশের সিটে মৃদুলা। পেছনে রাতুল অতুলের মাঝখানে বাবু। দুই বালক বাবু কাকুর সাথে কানাডার এটাসেটা নিয়ে গল্প জুড়ে দিলেও বাবুর চোখ বারবার চৈতীর দিকে ফিরছিলো। চৈতীর চোখও বাবু কাকুর চোখে তাতে আর সন্দেহ রইলোনা মৃদুলার। মার কাছে অনেক গল্প শুনেছে বাবু কাকুর। তাতে যৌবন ছুঁই ছুঁই কিশোরীর বুঝতে একটুও বাকী থাকেনা এই দুটি মনের এক গভীর সম্পর্ক ছিলো। কি জানি কেনো সম্পর্কটা পরিনতির মুখ দেখতে পারেনি।

চলবে…….

ফজলুল বারী বাবু,
জানুয়ারী ২০২২ ইং,
লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close