সিলেট

সিলেটের ট্র্যাভেল প্রতিষ্ঠানের মালিক আমিন রহমান অবশেষে গ্রেপ্তার

রোমানিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নামে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া সিলেটের সেই ট্র্যাভেল প্রতিষ্ঠানের মালিক আমিন রহমানকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেলিবাজার পয়েন্ট থেকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী মাহমুদ জানান, আমিন রহমান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশের তৎপরতায় এতে সফল না হওয়ায় ফের সিলেট ফিরে আসার সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সে তার প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।

ওসি বলেন, প্রতারণার ঘটনা শুনেই পুলিশ তৎপর হয়ে যায় এবং সিভিলে কাজ শুরু করে। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে থানায় মামলা হয়। এর মাঝে গতরাতে পুলিশ খবর পায় যে, ওই প্রতারক বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে সফল না হওয়ায় হয়তো অন্য কোন রুটে যাওয়ার জন্য সিলেট ফিরে আসছিল। এ অবস্থায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাকে ভুক্তভোগীদের মুখোমুখি করা হবে।

এর আগে রোমানিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে সিলেটের শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে গা-ঢাকা দেয় আমিন রহমান ট্রাভেলস নামের ওই প্রতিষ্ঠান। ঘটনার শিকার হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মানবপাচারের মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, কয়েকজনকে বিদেশে পাঠিয়ে- আস্থা অর্জন করে, শতাধিক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে উধাও হয়ে যায় ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী আমিন রহমান। এমনকি রোমানিয়া পাঠাতে জনপ্রতি ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার চুক্তি করা হতো এবং বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্ট ও সরাসরি রশিদের বিনিময়ে আগ্রহীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতো সে। এছাড়া মিথ্যে কথার ফাঁদে নিজ প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীকেও প্রতারিত করেছে সে। ওই তরুণী স্বামী-স্বজনসহ ১২ জনকে রোমানিয়া পাঠানোর চুক্তি করে এখন দিশেহারা।

এদিকে আমিন রহমান গ্রেপ্তারের পর প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীরা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close