সিলেট

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর উদ্ধার অভিযানে যৌথবাহিনী,লুটের রাজ‍্য থেকে ফিরছে প্রকৃতির রত্ন

প্রতিবেদকঃসৈয়দ আনোয়ার রেজা,

বৃহস্পতিবার,১৪ আগস্ট ২৫।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম রত্ন ভোলাগঞ্জের ‘সাদা পাথর’ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উত্তোলন ও পাচারের কারণে ধ্বংসের মুখে। পাহাড়, নদী, ঝরনা আর পাথরের সমাহারের অপূর্ব সৌন্দর্যের জায়গাটি তিন চারদিন আগে রূপ নেয় বিরাণভূমিতে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা ও বিভিন্ন স্তরের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে বালু ও পাথর পাচার হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ লুট হওয়া শত কোটি টাকার সম্পদের ভাগ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলেও পৌঁছাচ্ছে,যার ফলশ্রুতিতে আজকের এই অবস্থা ।

প্রতিবাদে সরব ভ্রমণপিপাসুরা
গত তিন-চার দিন ধরে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহণে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। ভ্রমণপিপাসু মানুষরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হচ্ছেন সরব।

বর্ধিত চাপ ও জনমতের প্রেক্ষিতে গতকাল জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো চুরি যাওয়া পাথর উদ্ধার করে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা। সিদ্ধান্তের পরপরই যৌথবাহিনী ভোলাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালায়।

জানা গেছে, গতকাল রাতেই প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর বিভিন্ন ক্রাশার মিলে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত পাথর পর্যায়ক্রমে ভোলাগঞ্জ এলাকায় পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হবে, যাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা যায়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু উদ্ধার অভিযানই নয় অবৈধ উত্তোলন বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা, কঠোর নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে স্বল্পমেয়াদি লাভের লোভে প্রকৃতির এই অমূল্য উপহার একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয় বরং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি অপরিহার্য সম্পদ। অথচ মানুষের লোভ, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা এই সম্পদকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। যে হারে পাথর লুট তা শুধু আইনবিরোধী নয় এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা। এখন জরুরি প্রয়োজন হলো আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, প্রভাবশালীদের হাত থেকে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই সংরক্ষণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে প্রকৃতি ধ্বংস হলে শুধু তার সৌন্দর্য হারায় না বরং মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভোলাগঞ্জকে বাঁচানো মানে আমাদের ভবিষ্যৎকে বাঁচানো।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close