মতামত

দেশে যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে,দৃশ্যত সেগুলোকে অনেকটা আমন্ত্রণ জানিয়েই ঘটানো হচ্ছে

নজরুল ইসলাম,

সড়ক ও জনপথে নতুন রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার ও এর সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনাগুলো প্রায়ই একটি অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত রাস্তার অবস্থান সাইন দ্বারা সৃষ্ট হতে পারে। একটি কার্যত রোড হাইওয়ে নীতিমালার প্রয়োগ পথচারী ও গাড়ী চালকে রাস্তার ভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ, একটি দৃশ্যমান সাইন পথচারী এবং গাড়িচালকদের পথ দেখাও এবং তাদের সতর্ক করতে সহায়ক ভূকিকা পালন করে।

ট্রাফিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাস্তার স্টপ সাইন চিহ্নের অনুপস্থিতি বা সাইন দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাংলাদেশের ইহা নিত্য দিনের ঘটনা। অদ্য বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার এলাকায় ঈদের ঠিক আগের দিন আকস্মিকভাবে একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে যা আমার দৃষ্টিকটু হয়েছে। এই মৃত্যের দায় কার? সামাজিক মাধ্যমে অভিমত ব্যক্ত করে অনেকেই বিবৃতি দিয়েছেন, ইঙ্গিত করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্টান কার্য সম্পাদক করতে গিয়ে কার্যত রোড হাইওয়ে নীতিমালার প্রয়োগের অনুপস্থিতি প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ। সাধারণ মানুষের উদ্ভেগ উৎকণ্ঠা কারো মাথাব্যথা নেই, দায়িত্বে নিয়েজিত কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতা দায়িত্বহীনতা কার্যসম্পাদনে পেশাদারিত্বের অনুপস্থিতি জান ও মালের ক্ষতি হচ্ছে বছরের পর বছর ধরে।

নির্মাণ কাজ চলছে এমন রাস্তার মোড়ে যদি (Stop sign) রাস্তা বন্ধ সাইন অনুপস্থিত থাকে তাতে একজন চালক থামাতে ব্যর্থ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। একজন চালক ভুলপথে একমুখী রাস্তায় নেমে যেতে পারে। একমুখী রাস্তার চিহ্ন অনুপস্থিত থাকলে অন্য গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হতে পারে। যদি সতর্কতা চিহ্ন অনুপস্থিত থাকে তাহলে একজন চালক সামনে অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকতে পারে। নির্মাণ কাজের (Construction work zone) জোন রোডসাইন ব্যতীত একজন চালক সামনের নির্মাণ সম্পর্কে অবগত হতে পারেনা। তাই সে গতি কমাতে ব্যর্থ হতে পারে বা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গাড়ি চালাতে পারে। দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। উল্লেখিত কারণগুলো বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার অনেক গুলো কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ মনে করছি। সেবার গণমত মানউন্নয়নে কে কি বললো কি ভাবলো এই সব বিষয় নোট করা বাঞ্ছনীয়।

দুর্ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আপনি যদি মনে করেন অনুপস্থিত রাস্তার চিহ্ন আপনার দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তাহলে একজন অভিজ্ঞ উকিলের সাথে পরামর্শ করুন। তিনি আপনার দুর্ঘটনার দায় প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন। দায়বদ্ধ ব্যক্তি প্রতিষ্টানের বিরুদ্ধে দুর্ঘটনার ফলে আপনার ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেমন ধরেন, আপনি যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, আপনার গাড়ি দুর্ঘটনাটি একটি চলমান নির্মাণ কাজে অনুপস্থিত রাস্তার দিক নির্দেশনা চিহ্নের কারণে হয়েছে, তাহলে আপনি ঠিকাদারি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে সাইনটি যথাযথভাবে প্রদর্শন না করার অভিযোগ এনে দায়ী করতে পারেন। অভিযোগ দায়ের পূর্ব আপনার কাছে প্রমাণ থাকতে হবে যে, দুর্ঘটনাটি অনুপস্থিত রাস্তারদিক নির্দেশনা চিহ্নের কারণে হয়েছিল। প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান কাজের দিক নির্দেশনা চিহ্নের অনুপস্থিত নথিভুক্ত ফটো ,পুলিশ রিপোর্টের কপি, অনুপস্থিত চিহ্নটি কোথায় থাকা উচিত তার সঠিক অবস্থান, আপনার গাড়ি এবং দুর্ঘটনার দৃশ্যের ফটো, দুর্ঘটনা দেখেছেন কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর নাম। বাংলাদেশে এই অনুশীলন আছে কি না  জানার আগ্রহ রহিল। দেশ গঠনের ৫০ বছর পরে এব্যাপারে স্পষ্ট নীতিমালা কার্যত কাজ করছে কিনা এমন সন্দেহ লজ্জার। যে কোনো সভ্য দেশ ও সমাজে রোড হাইওয়ে ট্রাফিক আইনে স্পষ্টতা উল্লেখ ও আইনের প্রয়োগ থাকা বাঞ্ছনীয়। পাঠকঃ আপনার গাড়ি এবং আপনি দুর্ঘটনায় পতিত হলে দেশের প্রচলিত রোড- হাইওয়ে নীতিমালা আইনের আওতায় মামলা দিয়ে দুর্ঘটনার কারন উদঘাটন করতঃ দুর্ঘটনারোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করা উচিত।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার এলাকায় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং জনৈক ভদ্রলোকে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু অনুপস্থিত দৃশ্যমান সাইন চিহ্নের অনুপস্থিতির কারণে ঘটেছে বলে স্থানীয় জনসাধারণ চায়ের দোকানে কথা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। প্রশ্ন তুলেছেন ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার জন্য কে দায়ী? শুধু মৌলভীবাজারের মুন্সিবাজারের দুর্ঘটনা না দেশের সামগ্রিক চিত্র ভয়াবহ। একটি দুর্ঘটনার পর এর কারণ উদ্ঘাটন ও এর থেকে উত্তরণের জন্য নিম্নলিখিত প্রমাণ তাৎক্ষণিক সংগ্রহ ও রেকর্ড ফাইল দুর্ঘটনারোধে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। যেমনঃ দুর্ঘটনার ফটোগ্রাফ, মেডিকেল রিপোর্ট,পুলিশ রিপোর্ট, আপনার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারেন এমন প্রত্যক্ষদর্শী যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, দুর্ঘটনাটি নিজেই দেখেছেন।

নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি প্রতিষ্টান কোম্পানির কার্য সম্পাদনের স্বক্ষমতা আছে কিনা তা মানা হয়না। নির্মাণ কাজে শ্রমিকেরা নিরাপদ পোশাক। হেলমেট পরেন না। নির্মাণ শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত কি না এসব বিষয় দেখা হয় না। অসতর্ক আচরণ, নির্মাণ সাইটের কাজে অজ্ঞতা, পেশাদারিত্বের অনুপস্থিতির কারণে সাধারণত দুর্ঘটনা ঘটে। দেশে এখনও যেভাবে রাস্তাঘাটে নির্মাণকাজ হয় তা নিয়ন্ত্রণহীন ও নিরাপত্তাহীনভাবে হচ্ছে, যা নির্মাণ প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে না। আমাদের দ্বারা সৃষ্ট এমন জঞ্জালের লাগাম টেনে ধরার সময় ক্রমেই অতিবাহিত হচ্ছে। আমরা শুধু কথা বলছি কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছি না। অথচ বাংলাদেশে জাতীয় নির্মাণবিধিতে (ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) ও নির্মাণ কাজের চুক্তিপত্রেও বলা আছে, নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকতেই হবে।

পাঠক ,সামাজিক সচতনতা মূলক লেখনীর ইতি টানতে হবে। নির্মাণ কাজে শ্রমিকদের জানতে হবে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে,মালিক পক্ষকে  বুঝতে হবে শ্রমের মূল্য, আমাদের শ্রমিকদের স্বার্থে সরকার ও যথাযত কর্তপক্ষকে হতে হবে আইনের দিক থেকে আরও কঠোর। দেশের প্ৰচলিত নিয়ন নীতির আলোকে আইনি প্রক্রিয়ার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চত করতে পারে নির্মাণ কাজের অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা জান ও মাল।

লেখক: জার্নালিস্ট, ওয়ার্কিং ফর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) লন্ডন। মেম্বার, দ্য ন্যাশনাল অটিস্টিক সোসাইটি ইউনাইটেড কিংডম।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close