কমিউনিটি
ডকল্যান্ড ইউনিটের সেহরীর আয়োজন: ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতিরএক অনন্য মিলনমেলা

গত ৩রা মার্চ মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) ডকল্যান্ড ইউনিটের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের সামুদা হলে একবিশেষ সেহরীর আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের মূলউদ্দেশ্য ছিল রমাদানের শিক্ষা ও তাৎপর্যকে উপলব্ধি করা, স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা এবংধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ারহ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র মায়ুম মিয়া তালুকদার, যিনি মুসলিম কমিউনিটির ঐক্য ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপকরেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লন্ডন সাউথ ইস্টরিজিওনের সভাপতি ও শূরা মেম্বার জনাব আজাদ মিয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন সাউথ ইস্টরিজিওনের সেক্রেটারি কাজী পারভেজ, রিজিওন দাওয়াসেক্রেটারি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মহিন উদ্দিন মজুমদারএবং ক্যানারি ওয়ার্ফ ব্রাঞ্চ সভাপতি জনাব আমিরুল ইসলাম।পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডকল্যান্ড ইউনিটেরসভাপতি জনাব ফারুক আলী।

সভাপতি জনাব আজাদ মিয়া তার বক্তব্যে রমাদানের শিক্ষা ওআত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রমাদানআত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশুদ্ধির মাস, যা আমাদের ব্যক্তিগতউন্নয়ন ও চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি চারটিমূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেন—ডেডিকেশন (নিবেদন), ডিসিপ্লিন (শৃঙ্খলা), টাইম ম্যানেজমেন্ট (সময়ের সঠিক ব্যবহার) এবং প্যাশেন্স বা সবর (ধৈর্য)। তিনি উল্লেখ করেন, এই চারটিগুণাবলি অর্জন করতে পারলে একজন ব্যক্তি শুধুআত্মিকভাবে নয়, বরং সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও সফলহতে পারেন এবং একজন প্রোডাক্টিভ মুসলিম হিসেবে গড়েউঠতে পারেন।
প্রধান অতিথি মায়ুম মিয়া তালুকদার বলেন, একটি শক্তিশালীকমিউনিটি গঠনের জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজকরতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাইআমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, বিশেষ করে তরুণদের উন্নয়নেবিনিয়োগ করতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের জন্যআদর্শ ও রোল মডেল হয়ে উঠতে পারে।
সেক্রেটারি কাজী পারভেজ ডকল্যান্ড ইউনিটের প্রশংসা করেবলেন, তারা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করে, বিশেষ করেখাবারের আয়োজনের মাধ্যমে সমাজে সহযোগিতা ওসহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, মানুষকে খাওয়ানোএকটি রাসুলের(সঃ) সুন্নাহ, যা শুধু দানশীলতাই নয়, বরংমানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যমহিসেবেও কাজ করে। আল্লাহ এতে বরকত দান করেন এবং এটিকমিউনিটির ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে। তিনি সবাইকে এ ধরনেরমহৎ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সেহরীর আয়োজনে অতিথিদের জন্য ঐতিহ্যবাহী খাবারেরব্যবস্থা করা হয়, যাতে প্রবাসের মাঝে থেকেও নিজস্ব সংস্কৃতি ওঐতিহ্যের স্বাদ পাওয়া যায়।
এই আয়োজনকে সফল করার পেছনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওকমিউনিটি লিডার জনাব মহিন উদ্দিন মজুমদারের বিশেষঅবদান ছিল। সেহরীর শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
এই আয়োজন শুধু একটি সেহরীর আয়োজন ছিল না, বরংএটি ছিল ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মুসলিমকমিউনিটির মধ্যে বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলেআয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।



