আন্তর্জাতিক
চীনের সঙ্গে ‘হটলাইন’ স্থাপন করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের এ পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া চীনের কাছে এ প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয়নি। চীনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে এ পদক্ষেপ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য জরুরি মুহূর্তে ব্যবহারযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা চালু করতে চায় তারা। মার্কিন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সূত্র বলেছে, এর মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বাইডেন। এ ছাড়া এই দুই নেতার প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। এ জন্য সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করা হবে। এর উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সাইবার হামলার সতর্কবার্তা বা সামরিক কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি তথ্য আদানপ্রদানে এ ফোন ব্যবহার করা হবে।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন রেড টেলিফোন স্থাপনের বিষয়টি নতুন নয়। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের আমলে। কিন্তু সেই কাজ আর এগোয়নি। পরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের শেষ দিকে এসে এ–সংক্রান্ত কাজ আগায়। বাইডেন প্রশাসন এখন সেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এ–সংক্রান্ত অনেক কাজ এখনো বাকি বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন সূত্র। এ ছাড়া চীন এ প্রস্তাবে রাজি হবে কি না, তা–ও এখনো নিশ্চিত নয়।
তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো ধরনের হটলাইন টেলিফোন নেই, এমনটাও নয়। চীনের নিরাপত্তা বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে একটি হটলাইন চালু আছে। তবে এটি শুধু সামরিক কাজে ব্যবহার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এমন সময়ে এই হটলাইন স্থাপনের কাজ চলছে, যখন দুই দেশের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছিল ট্রাম্পের আমলে। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমলে ২০১৮ সালে চীন থেকে আমদানি করা সাড়ে তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এরপর পাল্টা পদক্ষেপ নেয় চীন। দুই দেশের এই বাণিজ্যযুদ্ধ চরম রূপ নেয়। শুরু হয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিদায়ের পর বাইডেন প্রশাসন এলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কিন্তু পরিবর্তন হয়নি।
ট্রাম্পের আমলে চীনের পণ্যের ওপর যেসব শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, বাইডেনের আমলেও তা বহাল রয়েছে। হংকংয়ে গণতন্ত্রকামীদের ওপর দমন-পীড়ন, উইঘুর মুসলিমদের ওপর চালানো নির্যাতনের ঘটনায় চীনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন জো বাইডেন।
করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সন্দেহের তির চীনের দিকে। ফলে দিন দিন দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি দ্রুততর হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন পারমাণবিক হামলা এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ‘রেড টেলিফোন’ স্থাপন করা হয়েছিল। এবার চীনের সঙ্গে এমন হটলাইন স্থাপন করতে চাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। এ জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা–নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। খবর সিএনএনের।


