শিক্ষাঙ্গন
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির সমান

প্রতিবেদক: সৈয়দ আনোয়ার রেজা,
সোমবার,১১ অগাস্ট ২০২৫।
শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। কিন্তু বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য।বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের গড় মেধা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মাত্র সপ্তম শ্রেণির সমতুল্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ বছর বয়সী একজন শিক্ষার্থীর অন্তত ১১ বছরের সমমানের শিক্ষাগত দক্ষতা থাকা উচিত। অথচ বাংলাদেশে এই মান নেমে এসেছে মাত্র ৬.৫ বছরে। আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় বাংলাদেশের গড় স্কোর ৩৬৮ যেখানে ৩০০ হলো ন্যূনতম আর ৬২৫ স্কোর মানে উন্নত অর্জন। অর্থাৎ অধিকাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক পাঠ ,গণিত ও বিশ্লেষণ ক্ষমতায় পিছিয়ে আছে।

দেশে ৫ বছর প্রাথমিক, ৫ বছর মাধ্যমিক ও ২ বছর উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ১২ বছরের শিক্ষা সম্পন্ন করা হলেও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানে মাত্র সপ্তম শ্রেণির সমমানের জ্ঞান অর্জন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি শুধু শিক্ষার পরিমাণ নয় বরং গুণগত মানের গভীর সংকটের প্রতিফলন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান সিলেবাস মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষকদের মানের ঘাটতি রয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকেই শেখার মান যথাযথ নয়, ফলে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকেও জ্ঞানের ঘাটতি নিয়ে এগোচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান জানান, প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টি মন্ত্রণালয় অবগত এবং সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মনিনুর রশিদ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়াই এই সংকটের অন্যতম কারণ। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন অধিকাংশ শিক্ষক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানেও শিক্ষার মান সীমিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী শেখা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজন।
বাংলাদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটলেও গুণমানে পিছিয়ে পড়া এখন জাতীয় উন্নয়নের পথে বড় বাধা। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করানো নয় বরং বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব।



