লন্ডনে আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ আখতারুজ্জামানের মুক্তি ও বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবি

Poly Rahman, London Desk

লন্ডনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তি এবং বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকে আয়োজিত এ সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের জন্য বিমানবন্দরে হয়রানি, লাগেজ নিয়ে ভোগান্তি ও মালামাল চুরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।প্রবাসী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ ইউকের আহ্বায়ক সলিসিটর জহির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইউরোপের প্রধান মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ, গ্রেটার সিলেট ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান এবং সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অলিউল্লাহ নোমান।

সাবেক ছাত্রনেতা শাহরিয়ার আলম শিপার ও জুবের আহমদ আহাদের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওয়াহিদ মাহবুব, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এমদাদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী রফিকুল ঈসা, সংগঠক আবদুল্লাহ আল মুনিম, রাইট ফর কনসার্নের প্রেসিডেন্ট শফিকুর রহমান খান, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই-এর প্রেসিডেন্ট মুসলিম খান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট সাইফুর রহমান পারভেজ, রায়হান আহমেদসহ অনেকে।

শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ফজলুর রহমান।‘প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে’সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ বিদেশে যাওয়ার সময় থেকে দেশে ফেরার পর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে প্রবাসীদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।তাঁদের অভিযোগ, বিমানের টিকিটের সঙ্গে বিমানবন্দর ট্যাক্স পরিশোধ করেও অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিমানবন্দরে প্রত্যাশিত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

দেশে ফেরার সময় লাগেজ বিলম্ব, লাগেজ কেটে মালামাল চুরি এবং মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।বক্তারা আরও বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অতীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, লন্ডনপ্রবাসী সুরত মিয়া বিমানবন্দরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন।

তবে ওই ঘটনার বিচার এখনও হয়নি বলে তাঁরা দাবি করেন।আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিসমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, সম্প্রতি বিমানবন্দরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি এবং মালামাল চুরির অভিযোগের প্রতিবাদ করেছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাবেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।বক্তারা আরও বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য সেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রবাসীদের অর্থে পরিচালিত সেবা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। তাই বিমানবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও মালামালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

লাগেজ ও জমজমের পানি নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগসমাবেশে বক্তারা সম্প্রতি বিমানবন্দরে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বিমানবন্দরে পৌঁছেও প্রায় তিন ঘণ্টা লাগেজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংসদ সদস্যদের বসার মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও সেখানে ছিল না।তাঁরা আরও বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিজেদের বুকিং করা জমজমের পানি না পাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অন্যের জমজমের পানি দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। তাঁদের মতে, এ পরিস্থিতির প্রতিবাদ করাই ছিল আখতারুজ্জামানের উদ্দেশ্য।বক্তারা বলেন, প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে; তবে এর জবাব হিসেবে একজন প্রবীণ সাবেক সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জামিন না দিয়ে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।‘প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

তাঁরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের অন্যায় ও হয়রানির বিরুদ্ধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে।বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ এবং আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রবাসীরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং বিমানবন্দরে প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

লন্ডন ডেস্ক

https://notundin24.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফিচার সংবাদ

ফিচার সংবাদ

পাঁচ দশকের দীর্ঘ পথচলায় ‘নতুন দিন’ তার সাহসী সাংবাদিকতা এবং কমিউনিটি সেবার মাধ্যমে প্রবাসী সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জনপ্রিয় খবর

সাথে থাকুন