বৃটেন
লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিয়নের রমাদান প্রস্তুতিমূলক অধিবেশন অনুষ্ঠিত

গত ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, পপলার মসজিদ-এ এশার নামাজের পর লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিয়নের উদ্যোগে রমাদানকে সামনে রেখে এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র মাহে রমাদানকে যথাযথভাবে গ্রহণ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে জীবন গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এ অধিবেশনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেম ও ইসলামী বক্তা ড. আব্দুস সালাম আজাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মসজিদের ট্রাস্টি ও চেয়ারম্যান জনাব নুরুল আমিন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিয়নের সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব কাজী ফয়জুল ইসলাম পারভেজ এবং সঞ্চালনা করেন রিজিয়নের সেক্রেটারি জনাব এমদাদুর রহমান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে রমাদানকে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও আল্লাহভীতির মাস হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রমাদানকে ফলপ্রসূ করতে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। শুধু কেনাকাটার প্রস্তুতি নয়, বরং মাসব্যাপী ইবাদত ও আমলের একটি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।” তিনি মুসল্লিদের তওবা-ইস্তেগফারের প্রতি গুরুত্বারোপ করে নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ এবং ‘সাইয়্যিদুল ইস্তেগফার’ মুখস্থ করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, শিরক, হত্যা ও ব্যভিচারের মতো বড় গুনাহ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি আন্তরিক তওবা ও নেক আমলের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। রমাদানে সালাতকে সুদৃঢ় করা, কুরআনের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি, যাকাত আদায়, তাহাজ্জুদ কায়েম, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার ও সেহরি গ্রহণ এবং হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান।
রমাদানের চাঁদ দেখার দোয়া মুখস্থ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই দোয়ার মাধ্যমে নতুন মাসের জন্য নিরাপত্তা, ঈমান ও ইসলামের বরকত কামনা করা হয়। তিনি মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করারও আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কাজী ফয়জুল ইসলাম পারভেজ বলেন, “রমাদান আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আল্লাহ যেন আমাদের এ বরকতময় মাস পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক দান করেন। রমাদান পবিত্রতা, তাকওয়া ও গুনাহ মাফের মাস। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রস্তুতির মাধ্যমে আমাদের ঘরে ঘরে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।” তিনি সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
দোয়া ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-মুক্তি কামনার মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ রমাদানকে আরও অর্থবহ ও কল্যাণময় করে তুলবে এবং কমিউনিটির মাঝে দ্বীনি চেতনা জাগ্রত করবে।



