
পলি রাহমান: লন্ডন, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে মূলধারার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব। লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির সহযোগিতায় আয়োজিত বিশেষ এই অনুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল “International Mother Language Day – Inclusive Classroom Programme”।
ব্রিটেনের মূলধারার স্কুলগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং বাংলা ভাষার ইতিহাস ও গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব লন্ডনের লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির হলরুমে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল আশিদ আলী। তিনি লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ মূলধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করবে। তিনি জানান, প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আলতাব আলী পার্ক শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে। ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আন্তরিকতা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের জেনারেল সেক্রেটারি আকরামুল হুসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্রিটেনের মূলধারার শিক্ষার্থীদের সামনে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
আকরামুল হুসাইন তাঁর বক্তব্যে ভাষার পরিচয়, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কেবল ইতিহাস স্মরণের দিন নয়; এটি বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য উদযাপনের দিন। ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীরাই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখবে—তাই তাদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সদস্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উর্মী মাযহার এবং চ্যানেল এস-এর হেড অব প্রোগ্রাম ফারহান মাসুদ খান।
“বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস” বিষয়ে আলোচনায় উর্মী মাযহার বলেন, পৃথিবীতে বাংলা একমাত্র ভাষা যার মর্যাদা রক্ষায় মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের জন্ম দেয়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমি” বিষয়ে আলোচনায় ফারহান মাসুদ খান বলেন, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে বাংলা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জানান লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের ট্রেজারার আব্দুল হান্নান। ক্লাবের ইভেন্ট ও ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি রুপি আমিনের নেতৃত্বে ক্লাব নেতৃবৃন্দ প্রভাতফেরির গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আহাদ চৌধুরী বাবু, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার এখলাছুর রহমান পাক্কু, মিডিয়া ও আইটি সেক্রেটারি ফয়সাল মাহমুদ, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ মেম্বার সরওয়ার হোসেনসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শেষে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিকে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি ও স্মারক প্রদান করা হয়।



