বৃটেন
লন্ডনে শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ বাংলাদেশী লেখিকা ১১ বছর বয়সী জয়নাব চৌধুরীর মর্যাদাপূর্ণ সিভিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) লন্ডন টাউন হলে এক বর্ণাঢ্য জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নবের নাম স্থায়ীভাবে লন্ডনে সিভিক রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হল। যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক পরিসরে ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রমী ভূমিকার জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ বাংলাদেশী সিভিক অ্যাওয়ার্ড গ্রহীতা জয়নাবকে এই অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে একজন আদর্শ প্রতিনিধি এবং রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল।
এসময় স্পিকার, ডেপুটি মেয়র, কেবিনেট মেম্বার, চিফ এক্সিকিউটিভ, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, বৃটিশ গণমাধ্যম কর্মীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বকনিষ্ঠ বৃটিশ বাংলাদেশী লেখিকা জয়নাব চৌধুরী রচিত সম্প্রতি প্রকাশিত “My Journey Through Cayley Primary” বইটিতে একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে বিদ্যালয় জীবন, অধ্যবসায়, শিক্ষক–শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার গল্প সংবেদনশীল ও অনুপ্রেরণামূলক ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
জায়নাব লেখালেখির পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই সমাজসেবায় যুক্ত। কোভিড-১৯ মহামারির সময় অল্প বয়সেই সে খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নেয়। পরবর্তীতে চারিটেবল কাজের অংশ হিসেবে সে নিয়মিতভাবে খাদ্য বিতরণ, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে অংশগ্রহণ করে আসছে। তার এই দীর্ঘমেয়াদি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাকে কমিউনিটিতে আলাদা মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বইমেলাসহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জয়নাব অংশগ্রহণ করে প্রতিনিধিত্ব করেছে। সে পড়াশোনায় কৃতিত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, সিভিক অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি প্রমাণ করে- যথাযথ উৎসাহ ও সহায়তা পেলে অল্প বয়সেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। জয়নাব চৌধুরীর এই সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, লন্ডনের একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাস্টি এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হাসান চৌধুরী (শিপন) এবং নাদিরা চৌধুরীর আদরের কন্যা জয়নাব চৌধুরী তার পরিবারে সবার বড়। বাবা-মা সবসময় তাকে প্রতিভা বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশে তাদের পরিবারের অবদানও সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। দাদা তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের সাবেক সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় “তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে অসহায় মেয়েরা বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। দাদী রুনা বেগম (বিএবিএড) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন ডেপুটি হেড টিচার। সারা জীবন শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে প্রজন্মকে গড়ে তুলেছেন।



