রাজনীতি

নির্বাচনী ফল ঘিরে আলোচনা: জামায়াতের পরাজয় কি ষড়যন্ত্র, নাকি সংখ্যার বাস্তবতা?

ভোটের ফল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কারচুপির অভিযোগ, বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র

পলি রাহমান,

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নানা দাবি ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কিছু ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, একাধিক আসনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপির মাধ্যমে জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত করা হয়েছে।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেন, পিরোজপুর-২ আসনে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলেকে মাত্র ৭০ ভোটের ব্যবধানে হারানো হয়েছে এবং খুলনায় মিয়া গোলাম পরোয়ার প্রায় দুই হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন। ওই পোস্টে আরও বলা হয়, পাঁচ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে হারা আসনের সংখ্যা ৫৩টি এবং এসব আসনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীটির দাবি অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে জামায়াত ১৩৫টি আসনে জয়ী হলেও ফলাফলে তা কমিয়ে দেখানো হয়েছে।

ভোটের পরদিন, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে এ ধরনের বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। আরেকটি পোস্টে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ৫৭টি আসনে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৭০ থেকে কয়েক হাজার ভোট, যা নির্বাচনকে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বলে ইঙ্গিত করে (বানান অপরিবর্তিত)।

ফলাফলের বিশ্লেষণে কী দেখা যাচ্ছে?

কম ব্যবধানের আসনগুলোর ফলাফল জোটভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ২২টি আসনের মধ্যে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা জয় পেয়েছে ১১টিতে। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা জয়ী হয়েছে ৯টি আসনে। একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং অন্যটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

অর্থাৎ পাঁচ হাজারের কম ভোট ব্যবধানের আসনগুলোর প্রায় অর্ধেকেই জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরাই জয়লাভ করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দাবির বিস্তার:

ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্তত এক ডজন পোস্ট ও মন্তব্যে একই ধরনের দাবি করা হয়েছে—কারচুপি বা ষড়যন্ত্র না হলে আরও বেশি আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয়ী হতেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close