অন্যান্যপ্রবাসবাংলাদেশ

লীডসে জাঁকজমক আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন: ২১শে ডিসেম্বর

নতুনদিন প্রতিনিধি: সৈয়দ আনোয়ার রেজা,

মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ স্মৃতির ৫৩তম বার্ষিকী উদযাপনের চেতনায় মুখরিত হবে লীডস। ঐতিহাসিক ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১—দিনটি যেদিন পাক হানাদার বাহিনীর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি ছিনিয়ে আনে বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। এক রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই বিজয়ের মাহাত্ম্য অসামান্য। এটি কেবল বিজয়ের আনন্দ নয়, বরং এক অকল্পনীয় ত্যাগ ও সাহসিকতার ইতিহাস।

তবে বিজয়ের এই আনন্দের দিনটি একইসঙ্গে বেদনাবিধুর। স্বাধীনতার তরে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রম হারানো অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ চিরকাল জাতির হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণীয়। এই দিনটি বাংলাদেশি জাতিসত্তার ইতিহাসে গৌরবের পাশাপাশি গভীর বিষাদের স্মারক।

বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে লীডসের বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টার (বিসিএল) এবার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিসিএল-এর সাম্প্রতিক এক বৈঠকে জানানো হয়, এবারের অনুষ্ঠানমালা শুধু বাংলাদেশের ব্রিটিশ-বংশোদ্ভূত কমিউনিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং স্থানীয় ব্রিটিশ ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

বিসিএলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, বিজয়ের মহিমা ছড়িয়ে দিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে দুপুর ১২টায়। এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পৌঁছে দিতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজনও থাকছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লীডস ইস্টের সংসদ সদস্য রিচার্ড বারগন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লীডস সিটির কাউন্সিলর আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজন কেবল বাংলাদেশের গৌরবকেই স্মরণ করবে না, বরং এটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরবে।

বিসিএলের নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু জাতীয় নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সামরিক ইতিহাসে এক অতুলনীয় অধ্যায়। প্রশিক্ষিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মাত্র নয় মাসের সংগ্রামে অর্জিত এই বিজয় বিশ্ববাসীর কাছে স্বাধীনতার সংগ্রামের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

জাতির গৌরবময় এই ইতিহাস স্মরণ করে, লীডসের বাঙালি সম্প্রদায় নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির আত্মত্যাগের গৌরবগাথা তুলে ধরবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশপ্রেম ও চেতনার এই মহতী উদযাপন নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close