
প্রতিবেদকঃ সৈয়দ আনোয়ার রেজা,
১৩ এপ্রিল ২০২৫,রবিবার: একসাথে এত বিপুল জনসমাগম বাংলাদেশের ইতিহাসে কবে হয়েছে তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন!তবে এটুকু স্পষ্ট, শনিবার রাজধানী ঢাকা এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে।

সাড়ে আটষট্টি একরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উপচে পড়ে জনতার ঢল,ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সব সড়কেও।শাহবাগ, নীলক্ষেত, বাংলামোটর, কাকরাইল প্রতিটি পথ রূপ নিয়েছিল মানুষের মহাসমুদ্রে। সকাল থেকেই রাজধানী ও বিভিন্ন জেলা শহর থেকে দল বেঁধে মানুষ আসতে শুরু করে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে এই গণজমায়েতে যোগ দেন লাখো জনতা।

‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে চলতে থাকে মিছিল, শ্লোগান আর পতাকার তরঙ্গ । ফিলিস্তিনে গনহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে ঢাকার আকাশ। “ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই”, “ইজরায়েলি নিপীড়ন বন্ধ করো” এমন শতশত শ্লোগানে কেঁপে ওঠে রাজধানী।
এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশ নেন দেশের সব বড় রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।

গণজমায়েতের শেষে মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয় একটি ঘোষণাপত্র। এতে ইজরায়েলের সঙ্গে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে বিশ্বের সকল দেশকে আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘ইজরায়েল ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ শর্তটি পুনর্বহালের দাবি তোলা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের পরাশক্তি না হয়েও বাংলাদেশের এই উদ্যোগ একটি শক্ত বার্তা বহন করে। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের সহানুভূতি এবং সংহতির এই বহিঃপ্রকাশ নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে।

অসংখ্য পতাকা আর শ্লোগানে মুখরিত ঢাকায় যেন প্রমাণ হলো,মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শতকোটি মানুষের প্রতিরোধে খুব শীঘ্রই পর্যুদস্ত হবে ইজরায়েলি বর্বরতা।



