সিলেট
জগন্নাথপুর হাওর এলাকায় নব নির্মিত এডুকেশন ট্রাস্টের রিসোর্স সেন্টার পরিদর্শন করলেন- পরিকল্পনামন্ত্রী

জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর বেষ্টিত এলাকা হাবিব নগরে সদ্য নির্মিত জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ৬ রুম বিশিষ্ট অত্যাধুনিক রিসোর্স সেন্টার ভবন পরিদর্শন করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান সাথে ছিলেন পনেরো জন প্রবাসী। এ উপলক্ষে ১৫ই অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের সদ্য নির্মিত ভবনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. সানাওর চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও প্রজেক্ট সেক্রেটারি মহিব চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান, জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, বিশেষ বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ট্রাস্টি সাবেক সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান মুজিব,ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান রফিক মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, শিক্ষাবিষয়ক সেক্রেটারি পাবেল কাদের চৌধুরী, নুরুল হক লালা মিয়া, আনহার মিয়া, ছুবা মিয়া, এনামুল ইসলাম, আবুল হোসাইন, বকুল আব্দুস সবুর, আব্দুল হাই আজাদ প্রমুখ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলাম,জগন্নাথপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক নুরুল হক সহ জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শন কালে নেতৃত্ব দেন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও প্রজেক্ট সেক্রেটারি মহিব চৌধুরী। পরে তিনি ট্রাস্টের সদস্যদের সাথে নিয়ে
পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নানের হাতে
রিসোর্স সেন্টারের চাবি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস হস্তান্তর করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্ব এম এ মান্নান বলেন- আপনারা দেখেছেন সোয়াকোটি টাকায় নির্মিত এই ভবনটি আসলেই অনেক সুন্দর হয়েছে, এগুলো আমার টাকা নয় সরকারের টাকা, জনগণের টাকা, আমার কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে এই ট্রাস্ট নিয়ে, আমি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য স্থানীয় ইউএন ও কে বলেছি। আমি বিশ্বাস করি এই ট্রাস্টে যারা জড়িত তারা কেউই এই সামান্য এক কোটি ২৫ লাখ টাকার উপর লোভ করার কথা না! তারা প্রত্যেকেই ভালো অবস্থানে আছেন। এই সুন্দর ভবন দেখে আমি আনন্দিত। শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সরকারের প্রশংসা করে মন্ত্রী আর বলেন- বিশ্বব্যাংক যেখানে টাকা দেয়নাই সেখানে শেখ হাসিনার উদ্যোগে আজকে এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু আমরা নির্মাণ করেছি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষুকের দেশ নয়। আমরা ভারত-পাকিস্তান থেকে অনেক বেশি উন্নত অবস্তানে রয়েছি।
এ ব্যাপারে ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রজেক্ট সেক্রেটারি মহিব চৌধুরী বলেন- পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় আমরা জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ইং তারিখে আমাদের এই ট্রাস্টের রিসোর্স সেন্টারের কাজ সমাপ্তি হয় এবং এ পর্যন্ত এতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ প্রজেক্টকে সমপন্ন করতে হলে আমাদের আরো প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা দরকার হবে।
উল্লেখ্য , গরীব, অসহায়, মেধাবী শিক্ষাএীদের সাহায্যার্থে ট্রেনিংএর পাশাপাশি ও তাদের প্রতিভা বিকাশে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট। শুরুতে এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন উপজেলার কাঠাল খাইর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম এম এ আহাদ,এম এম নুর ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (লাউতলা),সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহিব চৌধুরী ( কুবাজপুর)এবং কোষাধ্যক্ষ ছিলেন ইকড়ছই গ্রামের এস আই আজাদ আলী । তারই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সাল থেকে এপর্যন্ত ট্রাস্ট পঁচিশ হাজার শিক্ষারতীদের বৃত্তি প্রদান করেছে। জগন্নাথপুর উপজেলার স্বনামধন্য ১৬৯ জন সদস্য এর সাথে স্বার্বক্ষনিক জড়িত রয়েছন। প্রত্যেক সদস্য জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা করে অনুদান হিসেবে এই প্রজেক্টে দান করেছেন। ট্রাস্টের সদস্যদের প্রায় প্রত্যেকেই বিশিষ্ট দানশীল ব্যাক্তি হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত। প্রতি বছর এই ট্রাস্ট ছাত্রদের বৃত্তি ও ট্রেনিংয়ের জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করে থাকে।



