কমিউনিটি
জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন এর ১৬তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ও গোয়াইনঘাট চক্ষু হাসপাতালে সাহায্যের আপিল

দীর্ঘ পথচলা চ্যারিটি সংস্থা জাস্ট হেল্প ফাউণ্ডেশন ১৬ বছর পূর্ণ করেছে। জাষ্ট হেল্প ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে।
পূর্ব লন্ডনে বিবিসিসিআই অফিসে চ্যারিটি সংগঠন জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন ইউকে এর উদ্যোগে সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রতিষ্ঠিত চক্ষু হাসপাতালের জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান সহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রেস কন্ফারেন্স অনুস্ঠিত হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের শুরুতে জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন এর ১৬তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন ইউকের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান।
প্রেস কন্ফারেন্স বলা হয় আগামী ৯ রামাদান চ্যানেল এস টেলিভিশনে ‘জাস্ট হেল্প সিলেট প্রাইড রোটারি আই হসপিটাল’ এর চ্যারিটি আপিলে অর্থ সহায়তা করার জন্য কমিউনিটির প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জাস্ট হেল্প ফাউন্ডেশন এর ফাউন্ডার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান।
সংবাদ সম্মেলনে চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “অন্ধজনে দেহ আলো” – এই স্লোগানে বিশ্বাসী হয়ে আমরা ২০১২ সালে ঠিক করি আমাদের প্রধান কার্যক্রম হবে সুন্দর এই পৃথিবীতে মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আমরা সিলেট শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার অদূরে শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর এলাকা গোয়াইনঘাটে নিজস্ব ভূমি ক্রয় করি। সেখানে আমরা নিজস্ব ভবনে একটি চক্ষু হাসপাতাল স্থাপনের জন্য চ্যারিটি ডিনার, টিভিতে আপিল ও ব্যক্তিগত চেষ্টায় তহবিল সংগ্রহ শুরু করা হয়।
অবশেষে ২০১৩ সালে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে কাজ শুরু করা হয়। ২০১৪ সালে হাসপাতালের প্রথম তলা ও ২০১৬ সালে দ্বিতীয় তলা নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৭ সালের শুরুতে নিজস্ব ভবন থেকেই বিনামূল্যে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবা ও স্বনামধন্য বার্ড হাসপাতালের সহযোগিতায় চক্ষু শিবির এর কার্যক্রম শুরু করা হয়।
“২০১৭ সালে টেইমসাইড রোটারি ও গ্লোবাল সলিউশন এর ৪ জন ডেলিগেট আমাদের হাসপাতাল ও কার্যক্রম পরিদর্শন করে অত্যন্ত খুশি হন। তাদের সাহায্যে ২০১৯ সালে আমরা উত্তর আমেরিকার রোটারি গ্লোবাল গ্র্যান্ট এর জন্য আবেদন করি। ৪টি ধাপে পর্যালোচনার মাধ্যমে অবশেষে ২০২১ সালে আমরা ১৪৩ হাজার ডলার হাসপাতালে যন্ত্রপাতি ক্রয়, স্থাপনা ও প্রশিক্ষণ বাবদ পেতে সমর্থ হই। তাদের বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী হাসপাতালের নামকরণ করা হয় ‘জাস্ট হেল্প সিলেট প্রাইড রোটারি আই হসপিটাল’। বর্তমানে হাসপাতলে তিন দিন সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা ও দুই তিন মাস অন্তর অন্তর চক্ষু শিবির কার্যক্রম চালু আছে। ২০১৭ সাল থেকে প্রায় ছয় বছরে আনুমানিক ছয় হাজারের বেশি রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ও ১৫৬০ জনের অন্ধত্ব দূরীকরণে আমরা সমর্থ হয়েছি।”
তিনি বলেন, আমাদের দানের ১০০% সেবা কার্যক্রমে ব্যয় হয়। কারণ ট্রাস্টিরা যাতায়াত, প্রশাসনিক খরচ, লিফলেট বা অন্যান্য খরচ দানের অর্থ থেকে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ব্যয় করেন।
“হাসপাতালের নিজস্ব ভবন ও যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বেতন এবং প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থ সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে” উল্লেখ করে জনাব মিজান বলেন, এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আসছে ৯ম রমজানে ‘চ্যানেল এস’ টেলিভিশনে একটি চ্যারিটি আপিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষ আমাদের এই আপিলে সাড়া দিবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।


সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, শেখ সুরত মিয়া আসাব, মোহাম্মদ আজাদ, তাজ চৌধুরী, শেখ শামসুল আলম, আবু সায়িদ চৌধুরী সাদি, সৈয়দ নাহাস পাশা, উদয় শংকর দাশ, মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ জুবায়ের প্রমুখ।



