
অবশেষে জামিন পেলেন হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লন্ডন প্রবাসী ৭ পরিচালক। বৃহস্পতিবার মাগুরার শালিখা আমলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমনা পাল এ আদেশ দেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অলিক কুমার বিশ্বাস ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হন বীমা কোম্পানিটির লন্ডন প্রবাসী ৭ পরিচালক। ওইদিন গ্রেফতারকৃত আসামিদের কেরাণীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার (২৬ সেপ্টেস্বর) তাদের জামিন আবেদন করা হলেও তা নাকচ করে দেন আদালত। ২৯ সেপ্টম্বর আদালতে আসামিদের স্ব-শরীরে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়।
তাদের বিরুদ্ধে বীমা গ্রাহকদের দায়েরকৃত মাগুরা জেলার সিআর মামলা নং- ২২৭, ২২৮, ২২৯, ২৩০/২২ এবং ধারা নং ৪০৬ ও ৪২০।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অলিক কুমার বিশ্বাস জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আজ আদালতে স্ব-শরীরে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আদালত আপোষের শর্তে সকলকে জামিন দিয়েছে। আমরা টাকার জন্য এই মামলা করেছিলাম তারা টাকা দিয়ে দিলে আমরাও মামলা তুলে নেব।
এদিকে মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবি মাগুরার বিশিষ্ট আইনজীবী শফিকুজ্জামান বাচ্চু এই মামলাকে ‘হাস্যকর ও বেআইনি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গ্রাহকদের পলিসির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডিসহ দায়িত্বশীলদের আসামি না করে শুধুমাত্র ৭ প্রবাসী পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা নিয়ে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ১১ পরিচালকের মধ্যে কেবল সিলেটের ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টিকে অনেকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন।
জানা যায়, প্রায় ১৪ লাখ টাকার বীমা দাবি না দেয়ায় হোমল্যান্ড লাইফের ৭ পরিচালকের বিরুদ্ধে মাগুরার আদালতে ৪টি মামলা করা হয়। কোম্পানির এজিএম থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি দেশের বীমাখাতেও ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সে চলা ‘লুটপাট ও অনিয়মে’র বিরুদ্ধে সিলেটের প্রবাসী পরিচালকরা বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। এজন্যে তাদেরকে ‘মামলার ভয়’ দেখিয়ে কোম্পানি থেকে বের করে দিয়ে কোম্পানি দখলে নেয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তাদের এই মামলার আয়োজন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে মোহাম্মদ জুলহাস দায়িত্ব পালন করছেন,সাথে এমডি ও।অথচ মামলায় তাদের নেই কোন নাম । বিষয়টি প্রবাসী বিনিয়োগকারীদেরকে রীতিমত ফেলে দিয়েছে জটিল ভাবনায়।



