সাহিত্য
তুমি হৃদয় ভেঙে করেছো আমায় পূর্ণ

তুমি হৃদয় ভেঙে করেছো আমায় পূর্ণ
মাসুমা রহমান
ভালোবাসার অপর নাম নাকি সবর?!
আমি ভাবি, “সবর?! সেটা আসলে কী?!”
প্রচণ্ডরকম,
নিজের অস্তিত্বের চেয়েও বেশি,
সীমাহীন,
এমন একান্ত করে চাওয়াকেই কি ভালোবাসা বলে?
এমন হলে,
তোমাকে হৃদয় উজার করে চাওয়াটা আমার সবরের শেষ সীমা।
আমায় উদাস দেখে,
এক বিকেলে,
খুব ব্যঙ্গ করে বলেছিলে,
“প্রেমিকাকে না পেলে কী হয়?!”
আমি যেন নিজেকেই প্রশ্ন করার ছলে উত্তর দিলাম,
“হৃদয় ভেঙে যায়?!”
তুমি এবার হেলায় হেসে জিজ্ঞেস করলে,
“আহারে! ভাঙা হৃদয়টা জুড়বে কিসে?!”
আমি চুপটি করে,
নিজের হৃদয়ের গভীরে তাকিয়ে,
দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললাম,
“ভাঙা হৃদয় তো কখনো জোড়া লাগে না আর!”
তখনো তোমার চাঁদমুখে,
জিজ্ঞাসু বাঁকা চাহনি…
আমি বললাম,
“এই তো আহত হৃদয় তার ভাঙা টুকরোগুলো সযত্নে
সামলে রেখে সয়ে যায়,
রয়ে যায়।
তোমার ফের জিজ্ঞাসা,
“কিন্তু কেন?!”
-ভালোবাসায় অসম হার না হলে তা প্রণয় হয় না তো!
প্রণয়ে বিরহ-ব্যথা না থাকলে,
নিজের সামনে সে অসীমকে কিভাবে অনুভব করবে?!
কত লোকই তো অসীমের সামনে দাঁড়ায়!
কিন্তু, তাকে ক’জনাইবা পায়?!
লোক তো হাজারো খেয়ালে
হেলায় শুধু পুতুল হয়ে দাঁড়ায়!
হৃদয় ভাঙে…
তখন
সেই ক্ষতবিক্ষত হৃদয়টা
শরীরকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেদনার নীল জিঞ্জিরে বেঁধে
ছুড়ে ফেলে সেই অসীমের পদতলে।
রূহ ছেড়ে,
প্রচণ্ড কষ্টের চিৎকার
শব্দ হারায়!
স্তব্ধ হয়ে যায়।
তার পর?!
-তার পর হয় প্রণয়!
সে এক গভীর প্রেম!
এক অমোঘ টান!
প্রেম আর প্রেমিকা দুটির মাঝে,
কিংবা ও দুটির বদলে
আমি সেই অসীম প্রেমীকে পেয়ে যাই!
আহা!
তাই তো!
ভালোবাসার অপর নাম সবর!
আর,
আমার সবরে তোমার জন্য অন্তহীন, অশেষ ভালোবাসা…
আসলে জরুরি ছিল না ভালোবেসে,
ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়া!
কিন্তু, জরুরি ছিল,
অবহেলায়,
অগোচরে,
ঝরে যাওয়া ভালোবাসা হারিয়ে,
অসীম, অমর সেই প্রেমীর
প্রেম পাওয়া।
এমন হাজারোবার,
হৃদয় চুরমার হওয়াকে মুবারকবাদ।
তুমি আমায় করেছো ধন্য!



