ধর্ম
মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিয়নের রমজান প্রস্তুতি বিষয়ক নাইট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

গত ১১ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, মুসলিম কমিউনিটিঅ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিয়নেরউদ্যোগে ব্রোমলি-বাই-বো মসজিদে এক বিশেষ নাইট প্রোগ্রামেরআয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেউপস্থিত ছিলেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের বিশিষ্ট ইমাম ও ধর্মীয়ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুল মোমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবেউপস্থিত ছিলেন এমসিএ’র শুরা সদস্য ও সেন্ট্রাল দাওয়াসেক্রেটারি জনাব নেছার আহমেদ এবং মাওলানা সোহেলসিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন লন্ডন সাউথ ইস্টরিজিয়নের সভাপতি ও শুরা সদস্য জনাব আজাদ মিয়া। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন রিজিয়নের তারবিয়্যাহসেক্রেটারি জনাব সৈয়দ শাকিল আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাওলানা সোহেল সিদ্দিকী রমজান মাসেরতাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “রমজান হলোকোরআনের মাস। পবিত্র কোরআন এই মাসেই নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশা।” তিনিরমজান মাসে সঠিকভাবে কোরআন তিলাওয়াত ও এর শিক্ষাগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এরপর জনাব নেছার আহমেদ তার বক্তব্যে দাওয়া কাজেরমাধ্যমে সর্বোচ্চ সওয়াব অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনাকরেন। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার পরিসংখ্যানউপস্থাপন করে বলেন, “এখানে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারবাংলাদেশির বসবাস, যার মধ্যে ৩৪.৬% মুসলিম। এদের মধ্যে৪৬% তরুণ-যুবক, যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্নসামাজিক সমস্যা যেমন পারিবারিক সহিংসতা, গ্যাং ফাইট, মাদকাসক্তি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেজড়িত।” তিনি এ সকল সমস্যা থেকে তরুণদের মুক্ত করেতাদেরকে আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্মিলিতপ্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি মাওলানা আব্দুল মোমিন তার বক্তব্যে রমজানমাসের প্রস্তুতি ও এর ফজিলত নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনিবলেন, “আমরা রমজানের মতো একটি পবিত্র মাসের দ্বারপ্রান্তেউপনীত হয়েছি, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে। কোরআনশুধু হাতে নিলেই বা দেখলেই ফজিলত রয়েছে, আর তা পড়লেতো অগণিত সওয়াবের বিষয়।” তিনি রমজান মাসে কোরআনঅধ্যয়ন ও আমলের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “ইমাম ইবনুলকাইয়ুম (রহ.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত যেতিনি আমাদের জানিয়েছেন কোরআন রমজান মাসের শেষদশকের বেজোড় রাতে নাজিল হয়েছে। যদি তিনি বলতেনকোরআন বছরের যেকোনো এক রাতে নাজিল হয়েছে, তাহলেআমরা সারা বছরই লাইলাতুল কদরের অপেক্ষায় থাকতাম।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি মসজিদে তারাবিহ পড়ি এবংবাড়িতে নিজে নিজে কোরআন তিলাওয়াত করি, তাহলে রাসুল(সা.)-এর আমলের সওয়াব পাব।” তিনি উপস্থিত সকলকেরমজান মাসে বেশি বেশি দান-খয়রাত, গরিব-দুঃখীর সাহায্যএবং কোরআন বুঝে পড়ার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকেকোরআনের আলোয় আলোকিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে রিজিয়ন সভাপতি জনাব আজাদমিয়া বলেন, “এমসিএ একটি দাওয়া সংগঠন। আমাদের লক্ষ্যহলো জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে এক আল্লাহরদিকে ডাকা, যাতে তারা কোরআনের হিদায়াত লাভ করে একটিসভ্য ও উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।” তিনিএমসিএ’র ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনাকরেন এবং উপস্থিত সকলকে সংগঠনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজকরার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি রমজান মাসের প্রস্তুতি ও কোরআনের গুরুত্ব নিয়েমুসলিম সম্প্রদায়কে সচেতন করার পাশাপাশি সামাজিকসমস্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়। উপস্থিতশতাধিক মুসল্লি অনুষ্ঠান থেকে উপকৃত হন এবং রমজানমাসকে সঠিকভাবে পালন করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরে যান।



