সাহিত‌্য

কবি নূরুল ইসলাম সোহাগের জন্মদিনে ম্যানচেস্টারে হৃদয়ছোঁয়া কাব্যিক সন্ধ্যা

ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্য | ২ জুলাই ২০২৫, বুধবার,

উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ ও স্মরণীয় কাব্যিক সন্ধ্যা।প্রবাসী কবি নূরুল ইসলাম সোহাগের জন্মদিন উপলক্ষে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জনপ্রিয় আয়োজনস্থল ক্যাফে গ্রীল-এ মঙ্গলবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় বসে এই সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাণময় আসর।

অনুষ্ঠানটি একদিকে ছিল কবির জন্মদিন উদযাপন, অন্যদিকে প্রবাসী বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের আন্তরিক মিলনমেলা। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত কবি, লেখক, সাংবাদিক, সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক উষ্ণ ও আবেগঘন পরিবেশ।

এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের পরিকল্পনা ও সফল বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেন নাট্যব্যক্তিত্ব সেতু চৌধুরী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সালেহ উদ্দিন সুমন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন কবি শিব্বীর আহমদ।

সন্ধ্যার শুরুতেই কবিকে ফুলের শুভেচ্ছা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদযাপন করে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্যে সাংস্কৃতিক সংগঠক সালেহ উদ্দিন সুমন বলেন:নূরুল ইসলাম সোহাগ কেবল একজন কবি নন, তিনি উত্তর ইংল্যান্ডে প্রবাসী বাংলা সংস্কৃতির এক দীপ্ত বাতিঘর।

লেখক ইয়াহিয়া কোরেশী তার বক্তব্যে কবির সাহিত্যকীর্তি ও মানবিক অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন:কবি সোহাগের কবিতায় যেমন হৃদয়ের গভীরতা রয়েছে, তেমনি আছে প্রবাসজীবনের নিঃসীম যন্ত্রণা ও না বলা কথার নির্মল প্রতিফলন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশির দশকের খ্যাতিমান কবি অধ্যাপক নুরুজ্জামান মনি। তিনি বলেন:এই আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রবাসেও বাংলা সাহিত্য বাঁচে, সংস্কৃতি জাগে এবং কবিতার ভিতর দিয়ে মানুষ মানুষকে ছুঁয়ে যায়। আজকের এই সন্ধ্যা তারই জীবন্ত প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে একে একে মঞ্চে আসেন যুক্তরাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে আগত কবি, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। আবৃত্তি ও কবিতা পাঠের মাধ্যমে তারা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:কবি ও গবেষক তাবেদার রসুল বকুল,আবৃত্তিশিল্পী মিতুল ইফফাত,উপস্থাপক নাজমা ইয়াসমিন,সংগীতশিল্পী বাউল কাসেম,কবি ও সংগঠক আবু মকসুদ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন:মোহাম্মদ আবুল আজাদ, আবু সাঈদ চৌধুরী সাদি ,কবি নুরুল হক ,সাংবাদিক আহমদ হোসেন হেলাল, কবি সৈয়দ হেলাল, ইমরান খাঁন, আক্তার হুসেন, ইদ্রিস আলী, মিজানুর রহমান, শাহ মোবাশ্বির আলী, সাদিকুর রহমান, আকিকুর রহমান রাজন, সৈয়দ সাদেক আহমেদ, তাজ উদ্দিন, লিয়াকত মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে কবি নূরুল ইসলাম সোহাগ বলেন:কবিতা আর ভালোবাসার মানুষের সান্নিধ্যে জন্মদিন উদযাপিত হলো,এটি নিঃসন্দেহে আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহারগুলোর একটি। এই ভালোবাসা আমার প্রেরণার শক্তি হয়ে থাকবে।তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান “ক্যাফে গ্রীল”-এর স্বত্বাধিকারী রহমান তুহিন, আয়োজকদের মধ্যে ইয়াহিয়া কোরেশী, মাহবুবুর রহমান এবং সকল অংশগ্রহণকারী ও শুভানুধ্যায়ীদের।

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন সাহিত্যিক আয়োজন প্রমাণ করে বাংলা সংস্কৃতি এখনও প্রবাসেও প্রাণবন্ত, প্রাসঙ্গিক এবং আন্তরিক চর্চার একটি জীবন্ত মাধ্যম।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close