কমিউনিটি
পপলার ইউনিটে কুইজ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন: তরুণদের মাঝে ইসলামি জ্ঞানচর্চার প্রাণবন্ত আয়োজন

গত সোমবার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ) পপলার ইউনিটের উদ্যোগে একটি বিশেষ কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পপলার ইউনিটের প্রায় ৩০ জন সদস্যের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি ছিল জ্ঞানচর্চা, ইসলামি মূল্যবোধ এবং তরুণদের শিক্ষামুখী উদ্দীপনা বৃদ্ধির একটি অনন্য প্রয়াস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমসিএ-এর শূরা মেম্বার ও লন্ডন সাউথ ইস্ট রিজিওনের সভাপতি জনাব আজাদ মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন কাউন্সিলর জনাব গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন পপলার ইউনিটের সভাপতি জনাব মনসুর আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দারসুল হাদীস পেশ করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ‘ঈমান, ইসলাম ও ইহসান’ সম্পর্কে গভীর ও প্রাঞ্জল আলোচনা করেন। তিনি ইহসানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইহসান হলো উৎকর্ষতার চর্চা—অর্থাৎ যা করণীয় তার চেয়ে আরও ভালোভাবে করা, অধিক দেওয়া এবং বিনিময়ের প্রত্যাশা না রাখা। তিনি বলেন, কুরআনে বহু জায়গায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইহসানকারীদের প্রসংশা করেছেন, যেমন বলা হয়েছে—“আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।” তিনি ইহসানকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যাখ্যা করেন:
১. ইবাদতে উৎকর্ষ
২. মানুষের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তম আচরণ
৩. প্রতিটি কাজেই উৎকর্ষতা অর্জনের চেষ্টা
দারস শেষে শুরু হয় কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে ২৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিচারকমণ্ডলীর রায়ে তিনজন বিজয়ী নির্বাচিত হন।
প্রথম পুরস্কার লাভ করেন ট্রেইনি সলিসিটর রবিউল আলম, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন সলিসিটর কামরুল ইসলাম এবং তৃতীয় পুরস্কার প্রদান করেন জনাব মির্জা জামাল। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।
বিশেষ অতিথি কাউন্সিলর গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “এই ধরনের আয়োজন তরুণদের কোরআনের সঙ্গে যুক্ত রাখার এক সুন্দর মাধ্যম। আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আল্লাহ যেন আপনাদের এই প্রয়াস কবুল করেন।”
পপলার ব্রাঞ্চের সভাপতি জনাব ইমদাদুর রহমান বলেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কোরআন শিখে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।” তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথি জনাব আজাদ মিয়া একটি দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা পেশ করেন, যেখানে তিনি মুসলমানদের সম্মিলিত জীবন (collective life) গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমরা দায়ী ইলাল্লাহ—মানুষকে এক আল্লাহর দিকে ডাকতে হবে, ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে দুনিয়াতে শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির পথ তৈরি হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সবার জন্য খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সুন্দর সমাপ্তি ঘটে। এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী চেতনা, জ্ঞানচর্চা এবং কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



