সাহিত‌্য

হয়তোবা

হয়তোবা

ফজলুল বারী বাবু

একদিন “সোনারবাংলা” আক্ষরিক হবে বিলীন হয়তোবা (তোমাদের ভাবনা),
মুছে ফেলবে তোমরা তোমাদের প্রচন্ড ঘৃণার আঁচড়ে!
আকাশের পাতায় যার নাম, মাটির প্রতিটি কণায় যার সুবাস ছড়ানো,
সেই সুবাস, সেই নামের অক্ষরের হয়না প্রয়োজন, জানো হায়েনারা, জানে আমাদের ভালোবাসা।
একাত্তর সেতো ৭ মার্চ দিয়ে তিলতিল করে গড়ে উঠেছিলো,
লক্ষ, কোটি মানুষের বুকের উত্তাল উত্তাপে মুক্তির নিশান উড়েছিল যার ইতিহাস বিশ্বজোড়া,
কৃষক, শ্রমিক, মজদুর, কামার, কুমার, রিকশা চলকের ২৬ মার্চ ক্লান্ত হয়তো এখন,
ক্লান্তির আছে শেষ, শুরু তার উদ্দাম আর উদ্দীপনায়, সময়ের কালক্ষেপন মাত্র।
এতটা সাহস তোমাদের, তোমরা জ্ঞানের অভাবী, পাপী কিংবা মূর্খ,
জনতার উৎস নয় ছাত্র, ছাত্রের ব্যাখ্যায় জনতার কাছেই ঋণী এরা।
ভাষা আন্দোলনে তোমাদের বিষোদগার, উর্দূতে প্রেম অবাঙালের,
ঘরে জিন্নাহর ছবি বাইরে বাংলায় কও কথা, এ’শুধু ধোকা, বোঝেনা জনতা বোকা!
একাত্তর আসেনি এমনি, সে এসেছিলো আটচল্লিশের হাতে ধরে,
উনসত্তুর দেখোনি তোমরা, তোমাদের পুর্ব পুরুষের
কুমনন্ত্রনার ফসল তোমরা,
স্বাধীনতা তোমাদের বোধের আড়াল, ধিক ধর্মের লেবাসী তোমাদের!
ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে তোমাদের ভয়, জানো তোমরা, জানি আমরা,
মুছে ফেলবে? অপেক্ষার প্রহরে বিচলিত বাংলার বাঘ আর বাঘিনীরা,
তারা আমেরিকা ডড়ায়না, ডড়েনা পশ্চিমার রাঙাচোখ, একাত্তর প্রমান।
জাতির পিতাকে করেছিস অসম্মান, তোরা জিন্নাহর সন্তান,
তোদের মুখে “পাক সারজামিন সাদবাদ” মানায় বেশ কুলাঙ্গার আদি রাজাকার,
জনতার উত্তাল ঢেউয়ের কর অপেক্ষা, আমরা শকুন মেরেছি একাত্তরে।
বাকী আজকের শকুন তোরা পাবিনা পালাবার পথ ঢেউ উঠছে, বান আসছে,
আমাদের হারাবার কিছু নেই, এইদেশ “বাংলাদেশ”, এই দেশ “আমার সোনার বাংলা”,
এইদেশ আটচল্লিশ, বাহান্ন, উনসত্তুর, আর একাত্তরের বাংলাদেশ!

ফজলুল বারী বাবু,
১১ নভেম্বর ২০২৪ ইং,
সকাল- ০৭:০৮ মি:,
লায়ের ভাল্ড, ভিয়েনা।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close