কলাম

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সঠিক পন্থায় আনতে যুবলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে- মকিস মনসুর

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক যুব কনভেনশনের মাধ্যমে যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র, শোষনমুক্ত সমাজ অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার, জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থাৎ সকল ধর্মের মানুষের স্ব স্ব ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার তথা জাতীয় চার মুলনীতিকে সামনে রেখে বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র দূরীকরণ, দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা সম্প্রসারন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তোলা, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং যুব সমাজের ন্যায্য অধিকারসমুহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মূলত ঐতিহ্যবাহী যুবলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো।

যুবলীগের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও হাজারো নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মাধ্যমে আজ বিশ্বের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন হিসাবে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী যুবলীগ।

যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফকির আব্দুর রাজ্জাকের ‘শেখ ফজলুল হক মনি: এক অনন্য রাজনীতির প্রতিচ্ছবি’ বইটিসহ বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থ থেকে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু একদিন শেখ মণিকে বলেন, ছাত্রজীবন পেরিয়েছে, অথচ যৌবন পেরোয়নি এরকম বহু যুবক এখন আদর্শহীন, লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। এখন অলস ও অকর্মণ্য জীবনে লক্ষ্যহীন হয়ে তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। নানা উচ্ছৃঙ্খল কাজে জড়িত হচ্ছে। এদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে দেশ ও জাতি গঠনের কাজে লাগাতে পারলে একটি যুবশক্তি তৈরি হবে, যে শক্তির ভেতর থেকে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। দেশ ও সমাজের ভবিষ্যতের রূপকার হবে এই যুবসমাজ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আদলে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সারাদেশে যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে তৎকালীন যুবলীগ সারাদেশে তাদের কর্মযজ্ঞ শুরু করে।

এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন ষাটের দশকের সারাজাগানো ছাত্রনেতা ও একজন মেধাবী দূরদর্শী মানুষ। তিনি একাধারে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের সময় গেরিলাবাহিনী মুজিববাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান, লেখক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ছিলেন। যার ফলে যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে খুব অল্পদিনের মধ্যেই যুবলীগ সময়োপযোগী সংগঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়।

শেখ ফজলুল হক মনির দূরদর্শী রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে যুবলীগ অল্পদিনে আওয়ামী লীগের প্রাণশক্তি হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি শেষ করে বৃটেনের আসার পর যুক্তরাজ্য যুবলীগের মাধ্যমে আমার যুব রাজনীতির সূচনা ঘটে। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে যুবলীগের সাথে আমার ও ছিলো দীর্ঘ এক যুগের প্রেম, প্রাণের বন্ধন, এবং আত্মার আত্মীয়তা, আমার ভালোবাসার ঐতিহ্যবাহী যুবলীগের ৫০ বছর পূর্তি তথা সুবর্ণজয়ন্তী বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশ পালন করেছিলাম আমরা বিশ্বময়।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৪ সাল টানা এক যুগ, ছাত্রলীগের স্কুল কমিটি ও একাটুনা ইউনিয়ন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, জাতীয় ছাত্রলীগের মৌলভীবাজার কলেজ কমিটির সভাপতি, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে আমার জন্মস্থান মৌলভীবাজার জেলা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ছাত্র রাজনীতিতে স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে রাজপথে সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম।

মধুর কেন্টিনের প্রাণবন্ত আড্ডা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার রাজপথ সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়,ক্যাম্পাসে মিছিল মিটিং, আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদা থাকতাম ব্যাস্ত, স্বৈরাচার এরশাদ-খালেদার স্বৈরাচারী শাসনামলেও অকুতোভয়ে সংগ্রাম করা সহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ মূখড়িত করে তুলতাম।

আজ ফিরে দেখা অতীতের দীর্ঘ এক যুগের অনেক কিছুই ভেসে উঠে চীর অম্লান হয়ে স্মৃতির মণিকোঠায়, ১৯৯০ এর সফল গন- আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসক এরশাদ এর পতন ঘটিয়ে ১৯৯৩ সালে বৃটেনে আসার কারণে বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিলাম।

বৃটেনে আসার পর ১৯৯৪ সালে ৪ টা জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বৃটেনের ওয়েলসের রাজধানী কাডিফ শহরে ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবাষিকী উদযাপন সহ ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করার মাধ্যমে বৃটেনের ওয়েলসের মাটিতে প্রথমেই ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছিলাম।

আমাকে (মোহাম্মদ মকিস মনসুর) সভাপতি ও ইমরান শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ওয়েলস ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ছাত্র রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার পর ১৯৯৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সভাপতি হরমুজ আলীর নেতৃত্বে বৃটেনের মাটিতে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সদস্য হিসেবে যুবলীগের রাজনীতিতে পুরাপুরি নিজেকে সম্পৃক্ত করি তুলি।

১৯৯৭ সালে ওয়েলসের মাটিতে যুবলীগের প্রথম সফল সম্মেলনের মাধ্যমে আমার ভালোবাসা ও প্রাণের এই যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের ওয়েলসের সভাপতির দায়িত্ব পালন ও পরবর্তীতে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজম সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সফল সম্মেলনে আমাকে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সহ সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

উক্ত সফল সম্মেলনে যুক্তরাজ্য যুবলীগের নির্বাচিত সভাপতি যুবনেতা আনোয়ার উজ্জামান চৌধুরী ও নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক যুবনেতা তারিফ আহমদ এর নেতৃত্বে যুবলীগকে শক্তিশালী করতে আমরা শুধু কার্ডিফে নয় নিউপোট, ব্রিজেন্ড, বৃস্টল, রিডিং ও সোয়ানসীতে কমিটি গঠন করা সহ বৃটেনের বিভিন্ন শহরে দিনরাত করেছি সভা সমাবেশ ও যুবলীগের প্রচার প্রচারণা, দীর্ঘ দিন তথা প্রায় এক যুগ এই যুবলীগের জন্য প্রবাসের শত ব্যাস্ততার মাঝে ও আমরা সংগঠনকে দিয়েছি সময়।

দলের জন্য খরছ করেছি নিজের কষ্টার্জিত প্রচুর অর্থ, করেছি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম, এই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিগত এক যুগ সমগ্র বৃটেনের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছি প্রতিনিয়ত, কত শত শত ঘন্টা, হাজার হাজার মাইল গাড়ি নিয়ে ঘুরেছি সেই হিসাব কোনো দিন করিনি।

যুবলীগের রাজনীতিতে ওয়েলস আওয়ামী যুবলীগের ২০০৬ সালে ২য় ঐতিহাসিক সম্মেলন উপলক্ষে আমার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ওয়েলস এর প্রথম স্মারকগ্রন্থ “হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু” নামে একটি ঐতিহাসিক স্মারক গ্রন্থ প্রকাশনা করেছিলাম, এই ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে আমি তিন মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে দিন রাত কাজ করতে হয়েছে এবং এই প্রকাশনার প্রিন্ট করতে বাংলাদেশের প্রায় ৫ লক্ষ টাকা খরছ হয়েছিলো।

লকেল নেতৃবৃন্দ থেকে ৩ লক্ষ টাকা কালেকশন হয়েছে। বাকি ২ লক্ষ টাকা আমার পকেট থেকে দিয়েছি।

এই স্মারক গ্রন্থটিতে লিপিবন্ধ হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন পরিচয়, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ের মুল্যবান ছবি, ৭ইমার্চ ১৯৭১ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণ, ঐতিহাসিক ছয় দফা, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিব নগর সরকার, বাংলাদেশ ও ভারতের মিত্র বাহিনীর নিকট পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পন, যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পটভৃমি, সহ ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের নিহত হওয়ার বিস্তারিত বিবরণ।

“হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু” স্মারকগ্রন্থটি নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাবেক সেক্রেটারি সৈয়দ আসরাফুল ইসলাম সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ ও সাবেক বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি ও দলের শীর্ষ নেতারা ও দেশে বিদেশে বিশিষ্টজনেরা প্রবাস থেকে এত সুন্দর তথ্যবহুল ও ম্যাগাজিন সম্পাদনা করার জন্য ওয়েলস যুবলীগের যখন ভূয়শী প্রশংসা করেছেন।

এটাই যুবলীগের রাজনীতিতে ওয়েলস যুবলীগের একটি বিরাট সফলতা বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

বিশেষ করে সেনা সমর্থিত ১/১১’র সময় রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গনতন্ত্রের মানস কন্যা, মমতাময়ী জননী, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকান্ড – নিষিদ্ধ থাকলে ও বিভিন্ন ভাবে শেখ হাসিনার মুক্তি দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন দিক থেকেও শেখ হাসিনার মুক্তির দাবি ওঠে।

বিশেষ করে প্রবাসের মাটিতে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করা হয়েছে।জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্য যুবলীগ এর ব্যানারে আমরা বৃটেনের মাটিতে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস দিনরাত সংগ্রাম করেছি। কাডিফ থেকে গাড়ি বহরে একাধিকবার লন্ডনের হাইডপার্ক, পার্লামেন্ট ভবন, হাইস অব কমন্স, ট্রাফালগার স্কয়ার’, আলতাব আলী পার্ক, সহ ব্রিকলেনের বিভিন্ন মিছিলে সভা সমাবেশে লোকজন নিয়ে গিয়েছি।

প্রতিটি সভা সমাবেশ বক্তব্য পদান সহ শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে শ্লোগানে শ্লোগানে মূখড়িত করে তুলেছি। এদিকে শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলন কমিটি ইউকে গঠনের মাধ্যমে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রী এমপি, ইউরোপীয়ান পালামেন্ট সদস্য,ও ওয়েলস এসেম্বলি মেম্বারদের সাথে সাক্ষাৎ করা সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সাথে এজ এ কনভেনার হিসাবে একাধিক চিঠির প্রদান সহ লবিং করেছি।

এটা চিরন্তন সত্য বিশ্বময় তথা প্রবাসের মাটিতে প্রবাসী বাঙ্গালীদেরকে নিয়ে আওয়ামীলীগ.যুবলীগ. ছাত্রলীগের আন্দোলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন করা ছাড়া ও ক্রমাগত চাপ, আপোষহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলনে দেশে বিদেশে যুবলীগের অগ্রনী ভৃমিকা ছিলো। যাহা সর্বমহলে স্বীকৃত।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে এদেশের যুব আন্দোলনের পথিকৃৎ শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি যে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আজকের লেখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যারা যুবলীগের উজ্জ্বল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের নাম তুলে ধরতে চাই, ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় কংগ্রেস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে শেখ ফজলুল হক মনি চেয়ারম্যান ও এডভোকেট সৈয়দ আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে আমির হোসেন আমু চেয়ারম্যান ও ফকির আব্দুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে তৃতীয় কংগ্রেসে মোস্তফা মহসীন মন্টু চেয়ারম্যান ও ফুলু সরকার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ কংগ্রেসে শেখ ফজলুল করিম সেলিম চেয়ারম্যান ও কাজী ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে পঞ্চম কংগ্রেসে এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক চেয়ারম্যান ও মীর্জা আজম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কংগ্রেসে মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী চেয়ারম্যান ও মোঃ হারুনুর রশীদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর সপ্তম কংগ্রেসে আওয়ামী যুবলীগের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে শেখ মনির জৈষ্ঠ্যপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

যুবলীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন গণমুখী কার্যক্রম সামাজিকভাবে প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করে যুবলীগ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে যুবলীগ। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সময় আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়।

স্বাধীনতার পর যুবলীগ জিয়া-এরশাদ-খালেদার স্বৈরাচারী শাসনামলেও অকুতোভয়ে সংগ্রাম করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন এই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘ ২১ বছর আওয়ামী লীগ ছিলো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের করতলে। এ সময় আওয়ামী লীগের পাশে থেকে দেশে বিদেশে যুবলীগ এক অন্যন্য ভূমিকা পালন করেছে এবং কেন্দ্র থেকে শুরু করে সারাদেশে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা সহ্য করেছে নির্যাতন।

যুবলীগ দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভোট ও ভাতের অধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রধান শক্তি হিসাবে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুংদ্ধার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর একটি অবিস্মরণীয় দিন, ১৯৮৭ সালের এই দিন যুবলীগ নেতা নূর হোসেনের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নূর হোসেন তার বুকে ও পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে এই দিনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫-দলীয় ঐক্যজোটের মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত যুবলীগের সক্রিয় কর্মী শহীদ নূর হোসেনের রক্তে অর্জিত হয়েছে এদেশের গণতন্ত্র। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ও রক্ষায় সংগঠনটির অবদান অনস্বীকার্য।

ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির একবারকার যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পরিণত হয়েছে।

১৯৭১ ও ৭৫-এর সেই ষড়যন্ত্রকারী ও হত্যাকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ও দেশী বিদেশি চক্রান্তকারীদের সাপোর্টে অগণতান্ত্রিকভাবে একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে।

দেশের জনগণের ইচ্ছা-অভিলাষের প্রতি তোয়াক্কা না করে তারা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। একটি আন্দোলনকে হস্তগত করে তার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভূ-লুণ্ঠিত করছে।

বাংলাদেশে আজ মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই, বাংলাদেশে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনুস সরকার গত ৫ ই অগাস্ট থেকে ৮ ই অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সমস্ত নেতাকর্মী, বাংলাদেশের বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্ঠান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মত আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠিত করে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, ধর্ষন, দেশ ত্যাগে বাধ্য এবং লক্ষ লক্ষ ঘরবাড়ি, সম্পদ ইত্যাদি বিনষ্ট করা হয়।

ভুয়া মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগে যুবলীগ, ছাত্রলীগ সহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের গণ-গ্রেফতার করা হচ্ছে। আদালতে নেই কোন নিরাপত্তা। গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে কোনো আইনজীবীদের দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছেনা, অনেক আইনজীবীকে আদালত প্রাজ্ঞনে মারধর করা হয়েছে।

অপরদিকে এই অবৈধ সরকার ক্ষমতা নিয়েই সব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জেল থেকে ছেড়ে দিয়ছে। আজ ঢাকা শহর সহ সাড়া বাংলাদেশে হত্যা, ছিনতাই, অরাজকতা, দখল ও ডাকাতির নগরী হিসাবে পরিণত হয়েছে।

দেশের জনগণের ইচ্ছা-অভিলাষের প্রতি তোয়াক্কা না করে তারা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছে। একটি আন্দোলনকে হস্তগত করে তার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভূ-লুণ্ঠিত করছে।

এদিকে বর্তমান সরকার কর্তৃক ৮ টি জাতীয় দিবস বাতিলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, বাঙালি জাতির সকল সংগ্রামের সারথি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অর্পিত প্রজ্ঞাপন এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে চলছে বিশ্বময় সভা – সমাবেশ। এধরণের প্রতিটি সভায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির যে কোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করার জন্য স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে প্রস্তুুত থাকতে হবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার পক্ষপাতদুষ্টুভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধেকে নির্বাসিত করছে। ক্ষমতা কুক্ষিগতকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে আওয়ামী লীগসহ গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল মানুষদের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালাচ্ছে। এই অবৈধ সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গণহত্যা ও বাছ-বিচারহীনভাবে গণগ্রেফতার চালানো হচ্ছে। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা গণহত্যার শামিল। সরকারের প্রত্যক্ষ সারা দেশে মব সন্ত্রাস চালিয়ে ভিন্নমত দমনের নিকৃষ্ট অপকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠলেও সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। খাদ্য মূল্যস্ফীতি স্মরণকালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যেহেতু সরকারের কোনো আইনগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতা নেই সেহেতু জনসাধারণের প্রতি তারা কোনো দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করছে না। বরং কেউ কোনো নাগরিক দাবিতে সোচ্চার হলে সরকার বেআইনিভাবে ক্ষমতা প্রদর্শনের একটা অভিনব পন্থা আবিষ্কার করেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী অগণতান্ত্রিক এই গোষ্ঠীর মতিভ্রম হয়েছে। ফলে তারা রাষ্ট্রে ও সমাজে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক শক্তিকে ধ্বংস করে গোষ্ঠীতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায়ে রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হচ্ছে এবং অভূতপূর্ব নৈরাজ্যবাদ কায়েম করেছে।

ফ্যাসিস্ট ফ্যাসিস্ট মুখে বুলি তুলে, এখন সমগ্র বাংলাদেশে গ্রাম থেকে শহরে, শহর থেকে পাহাড় পর্বত সমতলে ফ্যাসিস্ট, ফ্যাসিস্ট দের রাজত্ব কায়েম হচ্ছে, ফ্যাসিস্ট বাস্তবায়ন করা হয়েছে, বৈষম্য বৈষম্য বিরোধিতা করে এখন সমগ্র বাংলাদেশে বৈষম্যের দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দুর্নীতির দোহাই দিয়ে এখন দেশের মভ জাস্টিস করে সরকারি কর্মস্থলে নিয়োগ পত্রে, আমদানি রপ্তানি,শিল্প বাণিজ্য, পুঁজিবাজারে শেয়ার মার্কেটে দুর্নীতির আঁতুড় ঘর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, মানবাধিকার মানবাধিকার বলে চিল্লাচিল্লি করে এখন মানবাধিকার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ প্রাপ্ত মানবাধিকার থেকে, ন্যায়বিচার ন্যায়বিচার আইনের শাসন আইনের শাসন বলে কাঁদতে কাঁদতে এখন বিলুপ্তির পথে আইনের শাসন, দেশে নেই কোন আইনের শাসন, ইউনুস সরকারের নেই কোন বাস্তবমুখী আইনের শাসন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত করার, বাস্তবায়নের লক্ষণীয় উদ্যোগ বা কোন পদক্ষেপ, মিথ্যা মামলা মামলা হামলায় অভিযুক্ত করে,মামলা হামলা বাণিজ্যের মহা উৎসব চলছে, দেশের সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, কোটকাচারী আদালত প্রাঙ্গনে বিচারাধীন রাজনৈতিক অরাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি করে বৈষম্যের দেয়াল তৈরি করে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সধারণ জনগণের উপর বৈষম্যের দেয়াল সৃষ্টি করা হচ্ছে । সাধারণ জনগণ বুঝতে পেরেছে এই সমস্ত মুখের বুলি এখন রাজনৈতিক সুবিধাভোগী, রাজনৈতিক দলের সুবিধাবী এজেন্ডা দের ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় গদি টিকিয়ে রাখার, ক্ষমতার চেয়ার টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশ শুধু মগের মুল্লুক নয় বাংলাদেশ এখন মবের মুল্লুকে পরিনত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট মব জাস্টিস এর ফ্যাসিস্ট রাজ্যে পরিণত করছে ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সঠিক পন্থায় আনতে হলে গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী জনগণকে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং এই অগণতান্ত্রিক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চলমান রাখতে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রবাসী ও দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের ধারা সমুন্নত রাখার মানসে প্রাণের বাংলাদেশকে নিয়ে যে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে তাহা মোকাবিলা করে সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশে বিদেশে বসবাসকারী সকল যুবলীগকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার একজন ভ্যানগার্ড হিসাবে বিশ্বব্যাপি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে এই হোক সকল যুবলীগারদের একবারকার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দীপ্ত শপথনামা।

শুভ জন্মদিন যুবলীগ, জয়তু যুবলীগ, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক, জয় হোক মানবতার।

লেখক পরিচিতি:

মোহাম্মদ মকিস মনসুর,

সাংবাদিক ও লেখক এবং রাজনীতিবিদ।

চেয়ারম্যান, ইউকে বিডি টিভি, সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, প্রবাসের প্রহর, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ, সাবেক সভাপতি, ইউকে ওয়েলস যুবলীগ, প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি, ইউকে ওয়েলস ছাত্রলীগ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close