লাইফস্টাইল
মেনোপজ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত
“ওভার ফিফটিজ লেডিস কনসোর্টিয়াম”

“মেনোপজ সম্পর্কে যা জানা জরুরি” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারটি টাওয়ার হ্যামলেটসের “চিলড্রেন এডুকেশন গ্রুপ (CEG) সেন্টারে” অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি নারীদের মেনোপজ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বহুদিন ধরে চলা নীরবতা ভাঙার এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।
ডা. জাকী রেজওয়ানা আনোয়ার এই সেমিনারে “পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য” নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন। এরপর অনুষ্ঠিত হয় একটি প্রাণবন্ত “প্রশ্নোত্তর পর্ব”, যেখানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই তাঁদের নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং প্রশ্ন করেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনুষ্ঠানে অনেক পুরুষ অংশগ্রহণ করেন এবং এই ইস্যুতে নারীদের পাশে দাঁড়ান, যা কমিউনিটির দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

শমসিয়া বেগম ফোরম্যান তাঁর বক্তব্যে একটি উদ্বেগজনক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশি ৫০ ঊর্ধ্ব নারীদের মধ্যে তামাক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে, যা মূলত মেনোপজজনিত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন যে এটি একটি নীরব সমস্যা যা এখন সামনে আনাটা জরুরি।
কাউন্সিলর সায়েদা চৌধুরী ও কাউন্সিলর সাবিনা আক্তার জানান, তাঁরা ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবেন। নারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যেই তাঁরা যে কাজগুলি করছেন, সেগুলি তাঁরা তুলে ধরেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন বলেন, এই বিষয়টি এখনো আমাদের কমিউনিটিতে এক প্রকার ট্যাবু। মেনোপজ নিয়ে খুব কম কথাই হয়। এই দিকটিতে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে। তিনি হাফসা নূর এবং ডা. জাকী রেজওয়ানা আনোয়ার কে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহমুদ হাসান।
উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী রিন্কু, ইয়াসমিন সারওয়ার, এনায়েত সারওয়ার, রাহুল আমিন, ইয়াসমিন বেগম, রোচিয়া আঁচা, রূপা নাহার, আব্দুল রায়হান মালিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই হাফসা নূর অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশ সেন্টার ও CEG সেন্টারসহ যারা এই আয়োজনে সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা এখানে শুধু কথা বলার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি বিশেষ করে নারীদের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে নীরবতা ভাঙতে, ট্যাবু চ্যালেঞ্জ করতে এবং এমন এক আলোচনার পরিসর তৈরি করতে যা বহুদিন ধরে ছায়ায় ঢাকা ছিল।”
এই সেমিনারটি শুধু শিক্ষার মঞ্চ নয়, বরং একটি সচেতনতা ও পরিবর্তনের ডাক, যাতে নারীদের স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো সমাজের আলোকে নিয়ে আসা যায় এবং প্রত্যেক নারী যেন সম্মান ও সহায়তা পেতে পারেন।


